সিরিয়ায় দ্বিতীয় বাণিজ্য যাত্রা (৫৯৪ খ্রিঃ)

এরূপ সহজাত নম্রতার ফলে তিনি অন্যান্য সমবয়সী তরুণদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারতেন। এই সংগে আল্লাহ্’র করুণাও তাঁর উপর বর্ষিত হতো। সমব য়সী তরুণদের মধ্যে তরুণ মোহাম্মদ (সঃ) সর্বাপেক্ষা সুশ্রী ছিলেন, সর্বাপেক্ষা দয়ালু ছিলেন, সর্বাপেক্ষা সহজ-সরল ছিলেন, সর্বাপেক্ষা সত্যবাদী ছিলেন, সর্বাপেক্ষা বন্ধুবৎসল ছিলেন এবং সর্বাপেক্ষা নীতিবান ছিলেন। তাঁর মধ্যে এসব গুণ এতবেশি ছিল যে, যার জন্যে তাঁকে সকল মক্কাবাসী ‘আল-আমিন’ নামে আখ্যায়িত করতেন। ‘আল-আমিন’ শব্দের অর্থ সকলের বিশ্বাসভাজন ব্যক্তি।

আবু তালিবের মতো বেশিরভাগ মক্কাবাসী সিরিয়া এবং ইয়েমেনের সাথে ব্যবসা করে জীবন ধারণ করতেন। যেহেতু মক্কা নগরী ভয়ংকর অনুর্বর এবং সম্পদবিহীন এলাকায় অবস্থিত, সেই কারণে সেখানকার অধিবাসীদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায় ছিল এই দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য চালানো। আর মক্কা নগরী এই দুই দেশের মধ্যবর্তী অবস্থানে যোগসূত্র রক্ষা করতো।

এখানকার কাফেলা ইয়েমেনে গিয়ে কাঁচামাল সংগ্রহ করতো। এসব কাঁচামালকে ‘আরবীয় ফেলিক্‌স্’ বলা হতো। এছাড়াও চীন, ভারত এবং ইথিওপিয়া থেকে যে সব উৎপাদিত জিনিস ইয়েমেনে আমদানি করা হতো সে সব জিনিসও তাঁরা সংগ্রহ করতো। তাঁরা উট বোঝাই করে সুগন্ধি মসলা, ধূপদুনা, হাতির দাঁত ও স্বর্ণভস্ম, রেশমী বস্ত্র এবং প্রসাধন সামগ্রী নিয়ে আসতেন ইয়েমেন থেকে। মক্কায় ফিরে এসে তাঁরা ঐ সব সামগ্রীর সংগে যোগ করতেন তায়েফ কিংবা ইয়াসরিবের খেজুর। এরপর তাঁরা এখান থেকে সিরিয়ায় চলে যেতেন। সেখানে তাঁরা তাঁদের বাণিজ্যিক বস্তুর সাথে কৃষিজাত দ্রব্য; যথা – শস্য, গম, যব, ধান, ডুমুর এবং কিশমিশ বিনিময় করতেন। এসব কৃষিজাত দ্রব্যের সাথে গ্রীক ও রোম দেশের কিছু কিছু মূল্যবান জিনিসও তাঁরা ক্রয় করতেন।

এ ধরনের ব্যবসাতে কিছু কিছু মহিলাও জড়িত ছিলেন। যে-সব ব্যক্তি কাফেলার সংগঠন করতেন, সে-সব ব্যক্তির উপর মহিলা ব্যবসায়ীরা তাদের দ্রব্যাদির বিক্রয়ের দায়িত্বভার অর্পণ করতেন। তাঁদের বিক্রিত মালামালের মূল অর্থসহ লাভের একটি অংশ তারা পেতেন।

খাদিজা বিনতে খোয়ালিদ ছিলেন একজন ধনী এবং সম্ভ্রান্ত বিধবা। তিনি এ ধরনের ব্যবসা করতেন এবং এ ব্যবসায় তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তিও ছিল যথেষ্ট। বিবি খাদিজা ইতোমধ্যে লোকমুখে হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা আর চারিত্রিক গুণাবলীর কথা অবহিত হয়েছিলেন। তিনি ভাবলেন, হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-কে তাঁর ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব দিলে ভাল হবে। হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-কে ডেকে পাঠিয়ে তিনি তাঁকে প্রস্তাব দিলেন যে, সিরিয়াগামী তাঁর এক বাণিজ্য কাফেলার দায়িত্ব তিনি যদি গ্রহণ করেন তাহলে অন্যদের যা সম্মানী দিয়ে থাকেন, তার দ্বিগুণ সম্মানী তিনি পাবেন। হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এ প্রস্তাবে রাজি হলেন। কিন্তু আবু তালিব বাহিরার সাবধানবাণীর কথা ভেবে চিন্তিত হলেন। তাই তিনি কাফেলার সব সদস্যকে নির্জনে আলাদা-আলাদাভাবে ডেকে তরুণ মোহাম্মদ (সঃ)-এর নিরাপত্তার দিকে দৃষ্টি রাখতে বললেন। সেই সংগে আরও বললেন, যদি তাঁর কোন ক্ষতি হয় তাহলে তার জন্য তারাই দায়ী হবে। বিশেষভাবে মাইসারা নামে বিবি খাদিজার একজন বিশ্বস্ত ক্রীতদাসকেই আবু তালিব তাঁর সাবধানবাণী জানালেন। আবু তালিবের সাবধানবাণী শুনে দক্ষিণহস্তস্বরূপ মাইসারা তরুণ মোহাম্মদ (সঃ)-এর সংগী হয়ে এবং তাঁর প্রতি লক্ষ্য রেখে চলা শুরু করে হঠাৎ বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে তাঁর প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত হয়ে পড়লো।

সিরিয়া যাওয়ার পথে প্রত্যেক ঘটনা থেকে মাইসারা কিছু অলৌকিক চিহ্নের পরিচয় পেল। সে চিহ্নগুলো নিঃসন্দেহে হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর অতিমানবীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পরিচায়ক। মাইসারার এরূপ ধারণার মধ্যে কোন ভুল ছিল না। এ পথে সে ব্যবসায়ের প্রয়োজনে আগেও বহুবার যাতায়াত করেছে। সেই কারণে তার এই পথের অভিজ্ঞতা খুব ভালই আছে। এই পথ ধরে সে পূর্বে যখন গমন করেছিল তখন প্রচণ্ড গরমে তার গায়ের চামড়া পর্যন্ত শুকিয়ে গিয়েছিল। এত প্রচণ্ড গরমকে জাহান্নামের আগুনের পূর্বস্বাদ বলেই মনে করা যেতে পারে। দারুণ দাবদাহে পড়ে যে সমস্ত পশু এই পথে প্রাণ হারিয়েছিল তাদের কংকাল পথের দু’পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কিন্তু এবারের যাত্রায় প্রত্যেকদিন যখন সূর্য মাথার উপরে উঠে আসে এবং তার অগ্নিরূঢ়া কিরণ পথযাত্রীদের উপর বর্ষিত হতে থাকে সেই মুহূর্তে হালকা মেঘমালা পাখির পালকের মত নীল আকাশের বুকে ভাসতে থাকে। এই মেঘমালা পাখির ডানার মত বিরাট আকার ধারণ করে হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর উপর ছায়াদান করতে থাকে। যখন সূর্যের অমিত তেজ ক্রমান্বয়ে কমে আসে এবং সূর্য যখন পশ্চিম দিগন্তে ঢলে পড়ে তখন ঐ পশমী মেঘমালা একের পর এক অদৃশ্য হয়ে যায় এবং সেই সংগে পশ্চিম দিগন্তে রক্তিম আলপনার আভা সুবিস্তৃত হয়ে দেখা দেয়। তখন আর ঐ রক্ষাকারী মেঘমালার প্রয়োজন অনুভূত হয় না তদস্থলে দেখা দেয় অযুত নক্ষত্ররাজি, যে নক্ষত্ররাজির ঔজ্জ্বল্য পৃথিবীর আর কোনখানেই এতো মোহনীয় হয়ে ফুটে উঠেনি। এ সময় এমনকি মূক উটগুলোও আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠে এবং তারা তাদের দীর্ঘ পদক্ষেপ দ্বিগুণ গতিতে এগিয়ে যেতে থাকে। এখন আর কোন উটই মৃত্যুবরণ করে না এবং পূর্বের মত ছড়ানো ছিটানো কংকালগুলোর সাথে একত্রীভূত হতে হয় না।

একদিন চলতে চলতে খাদিজার দু’টি উট দারুণভাবে অবসন্ন হয়ে দলের পিছনে পড়ে গেল। মাইসারা তাদের গালাগালি ও মারধর দিয়েও অন্যান্য উটদের সারিতে আনতে পারলো না। এ দুটো উটের দেহ থেকে তখন দরদর করে ঘাম বের হতে লাগল এবং মনে হলো তারা শিগগিরই মাটিতে পড়ে যাবে; আর কখনও উঠতে পারবে না। মাইসারা তার মনিবের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তাই সে উট দুটোকে নিয়ে খুবই বিড়ম্বনার মধ্যে পড়ে গেল। সে উট দুটোকে ফেলে রেখেও যেতে চাইল না। কিন্তু অন্যদিকে তার মনে পড়ল, আবু তালিবের সাবধানবাণীর কথা। তাই সে দ্রুতপদে তরুণ মোহাম্মদ (সঃ)-এর কাছে এগিয়ে গিয়ে উট সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলো। মাইসারার কথা শুনে সামনের দিকে না এগিয়ে তিনি পীড়িত উট দুটোর কাছে ফিরে এলেন। তখন উট দুটো দারুণ যন্ত্রণায় মৃতপ্রায়। হযরত মোহাম্মদ (সঃ) উট দুটোর ওপর ঝুঁকে পড়ে তাঁর করুণাআশ্রয়ী হাত দু’টি মেলে দিয়ে তাদের নুড়ি পাথরে ক্ষত বিক্ষত পাগুলোয় স্পর্শ করলেন। যে উট দু’টি মার খেয়েও সামান্যতম নড়াচড়া করতে পারেনি তারা তখন ঐ পবিত্র হাতের স্পর্শ পেয়ে ত্বরিৎ গতিতে নিজের পায়ে খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল । এবং আনন্দের সংগে দ্রুতগতিতে ধাবমান হয়ে কাফেলার নেতাদের সন্নিকটে পৌঁছে গেল।

যখন কাফেলা সিরিয়ার বসরা নগরীতে পৌঁছলো তখন তাদের সৌভাগ্য সুপ্রসন্ন হলো। তরুণ হযরত মোহাম্মদ (সঃ) যে সব পণ্য এনেছিলেন, সিরিয়ায় পৌঁছে তা তিনি অপ্রত্যাশিত মুনাফায় বিক্রি করলেন; এবং ঐ সব জিনিসের মূল্যমান যে অসাধারণ তা তিনি বুঝতে পারলেন। ঐ সব জিনিস নিয়ে তাঁকে অধিক সময় ধরে দরকষাকষির ঝক্কি পোহাতে হয়নি। দরকষাকষির রেওয়াজটি তখন প্রাচ্য দেশেই চালু ছিল। তিনি তাঁর অকপটতা ও সততা দ্বারা প্রত্যেক ক্রেতার সহানুভূতি লাভ করতে সক্ষম হন এবং তাদের মধ্যে তাঁর দ্রব্যাদি ক্রয়ের আগ্রহ সৃষ্টি করেন। কিন্তু সর্বোপরি যে জিনিসটি ক্রেতাদের তাঁর প্রতি অধিক মাত্রায় অনুরাগভাজন করেছিল তাহলো স্রষ্টার দেওয়া তাঁর সারা অবয়বে বিচ্ছুরিত অলৌকিক দ্যুতি। প্রাচীন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা এই দ্যুতিকে নূরের-চক্র বলে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বর্তমানকালের বিজ্ঞানীরা এই দ্যুতির প্রকৃতিগত কোন অর্থ খুঁজে না পেয়ে একে আকর্ষণীয় শক্তি বলে অভিহিত করেছেন।

এসব অঞ্চলে ধর্মীয় আলাপ-আলোচনা খুব জোরে-শোরে হয়ে থাকে। এখানে প্রতিটি পাহাড়ের শীর্ষদেশেই গির্জা আছে এবং এখানে প্রতিটি প্রস্তরখণ্ড একজন নবীকে স্মরণ করে। তরুণ অভিযাত্রী মোহাম্মদ (সঃ)-কে প্রকৃতি স্বয়ং কাছে পেয়ে মাথানত করে অভিবাদন জানায়। এই তরুণ অভিযাত্রী অধিকমাত্রায় সকল যাজকের মনে বিস্ময় সৃষ্টি করেছিলেন। এই সব যাজকরা ধর্ম- -পুস্তক নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা করতেন এবং একজন আল্লাহ’র নরীর আগমনের প্রত্যাশায় কালযাপন করতেন। ইতোপূর্বে মাইসারা কয়েক দফা বাণিজ্য করতে আসার ফলে অনেক যাজকই তাকে চিনতেন। এখন তাঁরা মাইসারাকে তরুণ মোহাম্মদ (সঃ) সম্পর্কে নানা ধরনের প্রশ্ন করতে লাগলেন। তাঁরা দৈবক্রমে জানতে পারলেন যে, মাইসারা তরুণ মোহাম্মদ (সঃ)-এর একজন বিশ্বস্ত ক্রীতদাস। জরডিস নামের নেটোরিয়ান গোত্রের একজন যাজক তরুণ মোহাম্মদ (সঃ)-এর ভক্ত সেবক অর্থাৎ‍ মাইসারার কাছে ঠিক ঐরূপ ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যেভাবে আবু তালিবের কাছে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যাজক বাহিরা।

বেচা-কেনার পালা শেষ করে কাফেলা বাড়ির দিকে ফিরতে যাত্রা শুরু করল। ঐ মুহূর্তে সেই রহস্যময়ী মেঘমালা মোহাম্মদ (সঃ)-এর মাথার উপর এসে হাজির হল এবং যাত্রা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অবিরামভাবে সংগ দিয়ে চলল। মক্কা নগরীর প্রান্তদেশে ‘বাথেন মোও’ নামক স্থানে এলে মাইসারা তরুণ মোহাম্মদ (সঃ)-কে কাফেলার পিছনে ফেলে সামনে অগ্রসর হলেন। তিনি বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করে খাদিজার নিকট তাঁদের প্রত্যাবর্তনের শুভ সংবাদ পৌঁছে দেয়ার নিমিত্তে এগিয়ে গেলেন।

বিধবা খাদিজার অভ্যাস ছিল নিজের চাকর-চাকরানীদের নিয়ে বাড়ির ছাদে উঠে সিরিয়া যাওয়ার পথ লক্ষ্য করা। সিরিয়া যাওয়ার এই পূর্বমুখী পথটি গিরিখাতের মধ্যে এলে সেটাকে ‘জব্বল কায়কোয়ান’ পাহাড় থেকে দেখা যেত। খাদিজা নিজের মালামাল সম্পর্কে উৎকণ্ঠাবোধ করতেন না। কিন্তু অন্যের কাছে স্বীকার না করলেও তিনি কিছুটা ভয় পেতেন এই কথা ভেবে যে, পাছেই ঐ ব্যক্তিটির কোন ক্ষতি হয় যাঁকে তিনি অন্যদের বিশ্বাসভাজন বলে চিহ্নিত করেছেন। তরুণ মোহাম্মদ (সঃ) তাঁর মহৎ চারিত্রিক গুণাবলীর দ্বারা খাদিজাকে এভবেশি অভিভূত করেছিলেন যে তাঁর অনুপস্থিতিতে খাদিজা নিজেকে খুব দুর্বল মনে করতে লাগলেন এবং তাঁর এই দুর্বলতা কখনও শেষ হবে বলে মনে হতো না।

বেশ ক্লান্তিকর কয়েক সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করতে করতে একদিন যখন সূর্য মধ্যগগনে অবস্থান নিয়ে শহরকে দক্ষিভূত করছিল এবং লোকজন যখন পথে বের হতে পারছিল না, সেদিন খাদিজা তাঁর লক্ষ্যস্থল থেকে পথের দিকে দৃষ্টিমেলে তাকিয়েছিলেন। দূরদিগন্তের পানে নিরবচ্ছিন্নভাবে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তাঁর সুন্দর নয়ন যুগল এবং চোখের পাতা ঝলসে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পথের দিকে তাকিয়ে থেকেও যখন নিজ কাফেলার দেখা পাচ্ছিলেন না তখন তিনি কিছুটা ধৈর্যহারা হয়ে হতাশায় কিছুক্ষণের জন্যে চোখ বন্ধ করলেন। আর সেই মুহূর্তেই তাঁর বাড়িটি ক্লান্তিনাশী শীতল বাতাসে পরিপূর্ণ হয়ে উঠল। আর সেই সংগে বাড়ির শুভ্রছাদে এবং দহ্মিভূত পাহাড়ের মাথায় বেগুনী রঙের সুদৃশ্য আচ্ছাদন বিস্তৃত হয়ে সূর্যের খরতাপকে মোলায়েম করে তুলল। ঠিক তখনই শুভক্ষণের দরজা খুলে গেল এবং খাদিজার বাসগৃহে তরুণ হযরত মোহাম্মদ (সঃ) প্রবেশ করলেন।

তরুণ হযরত মোহাম্মদ (সঃ) বিচক্ষণ ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি যাবতীয় হিসাব বিবি খাদিজাকে বুঝিয়ে দিলেন এবং তাঁর নিকট উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলীর বর্ণনা করলেন। বিবি খাজিদা (রাঃ) আন্তরিকভাবে তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে সালাম জানালেন। তবে তিনি হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর সাফল্যে বড় ধরনের বিস্ময় প্রকাশ করলেন না। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাঁর ঐ সাফল্য আল্লাহ্ নির্ধারিত।

তরুণ হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর ফিরে আসার সংগে ঐ ছায়া প্রদানকারী হিতৈষী মেঘের যোগসূত্রের ঘটনা খাদিজার মনে গভীর রেখাপাত করেছিল; তিনি বুঝে নিয়েছিলেন যে, এ সবের মধ্যে স্পষ্টতই কিছু কুদরতি ইংগিত আছে। তিনি বললেন, “মাইসারা কোথায়? সে কি ঐ কাফেলার সাথে আছে?” তিনি আরও বললেন, “এখনই গিয়ে তাকে নিয়ে আসুন। উটের গতি বাড়াতে বলুন। আপনি যে ধন-সম্পদ আমাকে এনে দিয়েছিলেন, তার প্রশংসা করতে আমার অপেক্ষা সইছে না।”

তরুণ হযরত মোহাম্মদ (সঃ) তাঁর নির্দেশ মান্য করলেন। সিরিয়ার পথে যে মেঘমালা তরুণ হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-কে অনুসরণ করেছিল তা গৃহ ছেড়ে চলে গেল। এরপর খাদিজার আর কোন সংশয়ই থাকলো না। তাঁর বিশ্বস্ত দাস মাইসারা ফিরে এসে খাদিজার ধারণাকে আরও পাকাপোক্ত করে তুললো। মাইসারা বলল, “আপনি যে মেঘমালার কথা বলছেন, সেই মেঘমালা আমাদের মক্কা ত্যাগ করার প্রথম দিন থেকে প্রত্যাবর্তন করার দিন পর্যন্ত বিরামহীনভাবে আমাদের সংগে ছিল। হাওরানের (পর্বত) যাজক-শ্রেণীর ভবিষ্যদ্বাণীর আলোকে উদ্দীপ্ত হয়ে বসরা ত্যাগ করার সময় থেকে আমি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলাম যে মেঘমালা ছায়াদান করেছিল তা ছিল দু’জন ফেরেশ্তার ডানা। এই দু’জন ফেরেশ্তার দায়িত্ব ছিল আমার প্রভুকে সূর্যের অমিত তেজ থেকে রক্ষা করা।”

অতঃপর মাইসারা যাত্রাপথের সকল ঘটনার বর্ণনা করতে লাগলেন। এই সমস্ত ঘটনাবলীর মধ্যে অলৌকিকত্বের যে ছাপ ছিল তার অর্থ সে ভালভাবেই বুঝতে পেরেছিল। মাইসারা-বর্ণিত ঘটনাবলী বিবি খাদিজা (রাঃ) ক্লান্তিহীনভাবে শ্রবণ করতে লাগলেন এবং তাকে নানাবিধ প্রশ্ন করে চললেন।

পরের পর্বে আরও থাকছে…

Assalamu Alaikum! Hello world, I am Md. Hafijul Islam (mhihafijul). I am a Bangladeshi SEO expert. And I have been writing high quality Bengali content for a long time. I can write very nice SEO friendly articles. Along with that we do onpage seo, offpage seo and technical seo in proper guidelines. For which every article I write ranks on Google's fast page.

Sharing Is Caring:

Leave a Comment

error: Content is protected !!