পেটের গ্যাস কমানোর উপায় সঠিকভাবে জেনে নিন

মানুষ হিসেবে আমাদের সকলেরই গ্যাসের সমস্যা হয়ে থাকে। কারো কারো ছোট থেকে এই সমস্যা হয় কারো আবার বড় হয়ে। আপনি যদি পেটের গ্যাস কমানোর উপায় সঠিকভাবে জানতে চান তাহলে এখন আপনি ঠিক জায়গায় এসেছেন। এই পোস্টের মাধ্যমে আমি পেটের গ্যাস কমানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবো।

তাই আপনার যদি গ্যাসের সমস্যা হয়ে থাকে। আর আপনি যদি পেটের গ্যাস কমানোর উপায় জানতে চান তাহলে অবশ্যই পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। কিভাবে আপনি খাবারের মাধ্যমে কিংবা ব্যায়াম করার মাধ্যমে পেটের গ্যাস কমানোর উপায় অবলম্বন করতে পারবেন সেটি তুলে ধরবো এখন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ পেটের গ্যাস কমানোর উপায় সঠিকভাবে জেনে নিন

  • ভূমিকা
  • পেটের গ্যাস কমানোর খাবার
  • পেটের গ্যাস বের করার ব্যায়াম
  • সকালে কি খেলে গ্যাস হবে না
  • গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়
  • অতিরিক্ত গ্যাস হলে কি করনীয়
  • চিরতরে গ্যাস দূর করার উপায়
  • উপসংহার

ভূমিকা

বর্তমান আমাদের চারিপাশের ছোট বড় সকলেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগে থাকে। কেননা আমাদের আশেপাশের খাবার এখন প্রায় সবগুলোই ভেজালযুক্ত। আর ভেজালযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলেই আমাদের সকলের পেটের গ্যাস সমস্যা দেখা দেয়। পেটের গ্যাস কমানোর উপায় রয়েছে অনেক। তার মধ্যে কিছু উপায় আমি এখন আপনাদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরব। আশা করি আমার এই লেখাটি মনোযোগ দিয়ে আপনি পড়বেন।

পেটের গ্যাস কমানোর খাবার

পেটের গ্যাস কমানোর জন্য অনেক খাবারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে তার মধ্যে রসুন একটি অন্যতম উপকারী খাবার। প্রতিদিন খালি পেটে এক কোয়া রসুন আপনি খেলে গ্যাসের সমস্যা থাকবেনা। এছাড়াও ডাবের জল বা পানি পেটের গ্যাসের সমস্যা দূর করতে ডাবের পানি খেতে পারেন। পেটের গ্যাস কমানোর জন্য ডাবের পানি খুবই উপকারী একটি খাবার। তারপরে রয়েছে দই। আমরা জানি যে দই খাবার হজম করতে খুবই উপকারী একটি খাবার। পেটের গ্যাস কমানোর জন্য আপনি দই খেতে পারেন।

এছাড়াও পেটের গ্যাস কমানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকরী খাবার হচ্ছে কলা। কলায় উপস্থিত ফাইবার রয়েছে। যা পেটের গ্যাসকে কমাতে সাহায্য করে। তাই পেটের গ্যাস কমানোর জন্য কলা একটি অত্যান্ত কার্যকরী একটি খাবার। কলা দেয়া বিভিন্ন ধরনের তরকারি হয়ে থাকে। আপনি চাইলে কাঁচা কলা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের তরকারি খেতে পারেন। পেটের গ্যাস কমানোর উপায় আর তথ্য নিচে জেনে নেই।

গ্যাস বের করার ব্যায়াম

পেটের গ্যাস বা পেট ফাঁপা কে দূর করার জন্য ব্যায়াম একটি অত্যন্ত কার্যকারী পদ্ধতি। কেননা ব্যায়াম করলে আমাদের পেটের পেশি শক্তিগুলো নড়াচড়া করতে পারে এবং পেটের ভিতর করা অন্ত্রগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। যার ফলে পেট খোলা থাকা ভাব কিংবা পেটের ভিতর গ্যাস জমা হলে খুব সহজেই বেরিয়ে যায়।

আরো পড়ুনঃ এজমা থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় এবং এজমা ভালো করার ঔষধের নাম জানুন

পেটের গ্যাস কমানোর উপায় তার মধ্যে ব্যায়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। পেটের গ্যাস বের করার ব্যায়াম বিভিন্ন ধরনের রয়েছে তার মধ্যে তিনটি ব্যায়াম আপনি করলে সাথে সাথেই পেটের গ্যাস থেকে কিছুটা হলে উপকার পাবেন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক সে তিনটি ব্যায়ামের নাম।

  • পেট ম্যাসাজ করা
  • হাঁটা
  • যোগ ব্যায়াম

আপনার পেটে হঠাৎ করে গ্যাস বেড়ে গেলে আপনি পেট ম্যাসাজ করতে পারেন। এছাড়াও গ্যাসের সমস্যা দূর করতে আপনি নিয়মিত হাঁটতে পারেন। আর পেটের গ্যাস বের করার অত্যন্ত কার্যকারী ব্যায়াম হলো যোগব্যায়াম। বিজ্ঞানীদের গবেষণা মতে পেট ফেপে থাকা বা পেটের গ্যাসের সমস্যা কমিয়ে দিতে যোগ ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকরী।

সকালে কি খেলে গ্যাস হবে না

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন, সকালে কি খেলে গ্যাস হবে না বা হয় না। পেটের গ্যাস কমানোর ক্ষেত্রে অনেক খাবারই সকালবেলা খাওয়া যেতে পারে। পেটের গ্যাস কমানোর উপায় পর্বে আমরা এবারে একে একে জেনে নিই কোন কোন খাবার সকালে খেলে গ্যাস হবে না।

  • কমলা
  • কলা
  • আদা
  • দই
  • মৌরি
  • পেঁপে
  • শসা
  • ঠান্ডা দুধ
  • দারুচিনি
  • লবঙ্গ
  • রসুন
  • এলাচ
  • আমড়া
  • পুদিনা পাতা

উপরোক্ত এই সকল খাবার সকালে খেলে আপনার গ্যাস হবে না। আপনার যদি পেটের গ্যাস সমস্যা বেশি হয়ে থাকে তাহলে এগুলো খাবার আপনি নিয়মিত খেতে থাকুন সকালে। দেখবেন খুব দ্রুত আপনার গ্যাসের সমস্যা দূর হবে। এছাড়াও আপনি পেটের গ্যাস কমাতে সকালে লেবুর রস খেতে পারেন।

গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়

গ্যাসের সমস্যা দূর করার জন্য ঘরোয়া অনেক উপায় রয়েছে। তার মধ্যে উপরে আমরা কিছু জিনিসের নাম আগেই বলে দিয়েছি। পেটের গ্যাস কমানোর উপায় পর্বে এবারে আমরা চলুন সে সকল জিনিসের বিস্তারিত জেনে নেই। কোন জিনিস কিভাবে খেলে পেটের গ্যাসের সমস্যার থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে বা পেটের গ্যাস কমানো যাবে।

  1. রসুন এবং আদা পেটের গ্যাস দূর করতে অত্যন্ত কার্যকারী উপাদান। আপনারা জানেন যে আদা অতি দ্রুত হজম করাতে সাহায্য করে থাকে। আর রসুন রান্নার স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা খুবই দ্রুত গ্যাস থেকে মুক্তি লাভে সাহায্য করে।
  2. উপরে আমরা টক দইয়ের কথা বলেছি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে টক দের থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম যা পাকস্থলীতে গ্যাস তৈরি করতে দেয় না। এছাড়াও টক দই রয়েছে ল্যাকটিক এসিড যা খাবার কে হজম করাতে খুব দ্রুত কাজ করে।
  3. পেটের গ্যাস কমানোর ক্ষেত্রে মৌরি খুবই উপকারী একটি উপাদান। আপনি নিয়মিত মৌরি চিবিয়ে খেলে পেটে কোন ধরনের এসিড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তাই গ্যাসের সমস্যার সমাধানে নিয়মিত আপনি মৌরি খেতে পারেন। গরম পানিতে কিংবা চায়ের সাথে মিশিয়েও মৌরিখেতে পারেন।
  4. তুলসী পাতা রস পাকস্থলীর জন্য খুবই একটি উপকারী খাদ্য। আপনি যদি নিয়মিত চায়ের সাথে তুলসীপাতা মিশিয়ে খান তাহলে চায়ের স্বাদও পাবেন ভিন্ন রকম এবং গ্যাসের সমস্যার থেকেও সমাধান পাবেন।
  5. কলা আমাদের অতি পরিচিত একটি ফল। কম বেশি আমরা সকলেই কলম খেতে পছন্দ করি। কলাতে অধিক পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। যা প্রাকৃতিক এন্টাসিড হিসেবে পরিচিত। আমরা জানি যে কলা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়। । আপনি প্রতিদিন নিয়ম করে সকাল বেলা খালি পেটে কলা খেলে পেটের গ্যাস সমস্যা থেকে সমাধান পাবেন।

অতিরিক্ত গ্যাস হলে কি করনীয়

আমাদের সকলেরই প্রায় কম বেশি গ্যাসের সমস্যা রয়েছে। তবে এই গ্যাসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে অবশ্যই কিছু খাবার মেনে চলতে হবে। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া যাবেনা। এবং ভেজালযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না যেগুলোতে পেটের গ্যাস হতে পারে। তাহলে আমাদের অতিরিক্ত গ্যাস হবে না। তারপরও যদি কারো অতিরিক্ত গ্যাস হয় তাহলে অতিরিক্ত গ্যাস হলে কি করনীয় সেটি এখন আমরা জেনে নিই। প্রথমত আপনি লেবুর রস খেতে পারেন। পেট ফাঁপা কিংবা পেটের গ্যাস হলে লেবুর রস অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান।

আরো পড়ুনঃ দুই মাস মাসিক না হওয়ার কারণ প্রতিকারসহ জেনে নিন বিস্তারিত

এছাড়া আপনি চাইলে এক কাপ চায়ের সঙ্গে লেবুর রস এবং ব্রেকিং সোডা মিশিয়ে খেতে পারেন। অতিরিক্ত গ্যাসের ক্ষেত্রে আপনি ত্রিফলা ও খেতে পারেন। ত্রিফলা আপনার পেটকে ঠান্ডা করে রাখবে। এছাড়াও অতিরিক্ত গ্যাস হলে আপনি নিয়মিত কাঁচা আদা খেতে পারেন। তাছাড়াও গরম পানির সাথে জিরা ফুটিয়ে নিয়ে সেই পানি ঠান্ডা করে খেতে পারেন। আশা করি বিষয়গুলো বুঝতে পেরেছেন এবারে চলুন পেটের গ্যাস কমানোর উপায় পর্বে আরো সকল নিয়ম-কানুন জেনে নেই।

চিরতরে গ্যাস দূর করার উপায়

পেটের গ্যাস কমানোর উপায় পর্বে অধিকাংশ মানুষই বলে থাকে চিরতরে গ্যাস দূর করার উপায় কি? গ্যাস্টিকের সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই আপনাকে প্রথমত খাবার মেনে চলতে হবে। ভাজাপোড়া জাতীয় বা গ্যাস্ট্রিক জাতীয় কোন ধরনের খাবারই খাওয়া যাবেনা। চিরতরে গ্যাস দূর করার জন্য অবশ্যই অনেক খাবারই আপনাকে খাওয়া যাবেনা আবার অনেক খাবারই খেতে হবে। কি ধরনের খাবার পেটের গ্যাস কমায় সেগুলো আমরা উপরেই বিস্তারিত আলোচনা করে ফেলেছি।

তাহলে চলুন এবার আমরা জেনে নেই চিরতরে গ্যাস দূর করার জন্য কোন কোন খাবার খাওয়া যাবে না। কোন ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবার খাওয়া যাবে না। । চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। দুগ্ধ জাত খাবার খাওয়া যাবেনা। কোন ধরনের সুগার ফ্রি খাবার খাওয়া যাবে না যেমন চকলেট, ক্যান্ডি, চুইন গ্রাম, ইত্যাদি। এছাড়াও অতিরিক্ত মাংস খাওয়া যাবে না, কোন ধরনের কমল পানীয় খাওয়া যাবেনা। এছাড়াও ফাস্টফুড জাতীয় কোন ধরনের খাবার খাওয়া ঠিক নয়।

আরো পড়ুনঃ প্রথমবার গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ জানুন কোন ধরনের টেস্ট ছাড়ায়

নিয়ম মেনে এগুলো খাবার না খেয়ে, নিয়মিত আপনি কলা, কমলা, শশা, পেঁপে, আদা, লবঙ্গ, পুদিনা

পাতার পানি, এলোভেরা, ডাবের পানি, রসুন ইত্যাদি জাতীয় খাবার খান তাহলেই আপনার চিরতরে গ্যাস দূর হয়ে যাবে। আশা করি আপনি আপনার সমস্যার সমাধান পেয়ে গেছেন। পেটের গ্যাস কমানোর উপায় পর্বে শেষ অবধি থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

উপসংহার

গ্যাসের সমস্যা যেহেতু একটি কমন সমস্যা। পৃথিবীর মধ্যে সবচাইতে বেশি গ্যাসের ওষুধ বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু আপনি চাইলে ঘরোয়া ভাবেই গ্যাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। কেননা পেটের গ্যাস শুধুমাত্র খাবারের জন্যই তৈরি হয়। আশা করি আমার পোস্টটি পড়ে পেটের গ্যাস কমানোর উপায় সঠিকভাবে জেনে গেছেন বিস্তারিত। আমার উপরোক্ত লেখাগুলো থেকে যদি আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন।

তাহলে অবশ্যই লেখাটি আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবেন। তাহলে সেও হয়তো কিছুটা উপকৃত হবে। উপরোক্ত সকল প্রক্রিয়া ব্যবহার করেও যদি আপনার পেটের গ্যাস কমানো না যায়। তাহলে বলবো অবশ্যই ভালো একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তাছাড়া আপনার যেকোনো ধরনের সমস্যা হতে পারে।

Assalamu Alaikum! Hello world, I am Md. Hafijul Islam (mhihafijul). I am a Bangladeshi SEO expert. And I have been writing high quality Bengali content for a long time. I can write very nice SEO friendly articles. Along with that we do onpage seo, offpage seo and technical seo in proper guidelines. For which every article I write ranks on Google's fast page.

Sharing Is Caring:

Leave a Comment

error: Content is protected !!