মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম ও নিয়ত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

আজকে আমি আপনাদের সামনে মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম ও নিয়ত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করবো। আশা করি সম্পূর্ণ পোষ্টটি মনযোগ দিয়ে পড়বেন তাহলে আপনি মহিলাদের ঈদের নামাজ নিয়ে সকল খুঁটি-নাটি বিষয়গুলো জানতে পারবেন। তাহলে চলুন একে একে জেনে নেওয়া যাক।

অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন যে, মহিলারা কি ঈদের নামাজ ঘরে পড়তে পারবে? আবার অনেকে বলে মহিলারা কি ঈদগাহ গিয়ে নামাজ পড়তে পারবে? এই সব সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানতে হলে অবশ্যই আপনার পোষ্টটি পড়া দরকার।

পোস্ট সূচিপত্রঃ মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম ও নিয়ত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

  • ভূমিকা
  • মহিলাদের ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ম
  • মহিলাদের ঈদের নামাজ কত রাকাত
  • মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়ার হুকুম
  • মহিলাদের নামাজের নিয়ম
  • মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ত
  • মহিলারা কি ঈদের নামাজ ঘরে পড়তে পারবে
  • মহিলাদের ঈদগাহে যাওয়া
  • ঘরে ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম
  • উপসংহার

ভূমিকা

ছেলেদের পাশাপাশি মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম ও নিয়ত নিয়ে হাদিস তথ্য বলে দেওয়া রয়েছে। ছেলেরা যখন ঈদগাহে গিয়ে নামাজ পড়বে তখন মেয়েরা সেই সময়টুকুতে বাড়িতে পরিবারের সকল সদস্য মিলে জামাতের সহিত ঈদের নামাজ পড়তে পারবে। মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম ছেলেদের মত হলেও এখানে কিছু নিয়ম জানতে হবে। পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়লেই আশা করি সবকিছু বুঝতে পারবেন ভালোভাবে।

মহিলাদের ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ম

হাদিসের প্রথম যে নিয়ম রয়েছে তা হলো ঈদের নামাজ জামাতের সহিত পড়তে হবে। একা একা নামাজ পড়লে সেটি হবে না। এই কথা থেকে বোঝা যায় যে মহিলারা বাড়িতে একা কি ঈদের নামাজ পড়তে চাইলে তার নামাজ আদায় হবে না। অবশ্যই পরিবারের সকলে মিলে জামাতের সহিত নামাজ আদায় করতে হবে। অথবা গ্রামের সকল মহিলারা মিলে জামাতের শহীদ ঈদের নামাজ আদায় করবে।

হাদিসের দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী ঈদের নামাজ পড়তে হলে নারীদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অংশগ্রহণ করা সম্পর্কে অনুমতি দেননি আদায়ের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়া ওয়াজিব হিসেবে নয় বরং তাগিদ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব ব্যতীত অন্যান্য দেশগুলোতে বিশেষ করে আমাদের বাংলাদেশের ঈদগাহগুলোতে নারীদের নামাজ পড়ার জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা করা হয় না।

ফলে এখানে পর্দার বর খেলাপ এবং ফেতনা তৈরির আশঙ্কায় বেশি। আর এজন্যই মহিলাদের ঈদগাহে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে কোন সুযোগ নেই। তারপরও যদি অংশগ্রহণ করতে চাই কেউ তাহলে পর্দার ব্যবস্থা করতে হবে। কোন মহিলা ঈদগাহে জামাতের শহীদ নামাজ আদায় করতে চাইলে থাকা অবশ্যই পূর্ণ পর্দার সাথে ফেতনা মুক্ত হয়ে ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করতে হবে। মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম আরো রয়েছে।

মহিলাদের ঈদের নামাজ কত রাকাত

সারা পৃথিবীতে দুইটি ঈদ পালিত হয়ে থাকে। একটি ঈদুল আযহা এবং একটি ঈদুল ফিতর। বড় ঈদ হিসেবে ঈদুল আযহা কে ধরা হয় কিন্তু বলতে গেলে প্রথমে ঈদুল ফিতরের নামটি চলে আসে এবং ঈদুল ফিতর একটি আগে পালিত হয়ে থাকে যদি এটি ছোট ঈদ নামে পরিচিত।

আরো পড়ুনঃ ইসলাম ও সুন্দর জীবন সম্পর্কে জানুন

 এখানে মহিলাদের ঈদের নামাজ ছেলেদের মতই সমান। ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ৬ তাকবীরের সঙ্গে আল্লাহু আকবার নিয়ত করে তাকরিমা বাদ দেন। এবং ঈদুল আযহার দুই রাকাত নামাজ আদায় করা ওয়াজিব তবে মহিলাদের জন্য এটি সুন্নত। আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়ার হুকুম

মহিলাদের জন্য ঈদের নামাজ পড়া ওয়াজিব নয় বরং এটি সুন্নত। হাদিসে বলা হয়েছে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা এবং তরুণীদেরকে দুই ঈদের সময় ঈদগাহে নিয়ে যেতে হবে। তবে ঋতুবর্তী মহিলাদের নামাজের জায়গা থেকে দূরে থাকতে হবে। মোনাজাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। ঈদের নামাজ পড়ার জন্য হযরত মুহাম্মদ সাঃ আদেশ দিয়েছেন। তাই অবশ্যই ঈদের নামাজ পড়তে হবে। মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা নিচে রয়েছে।

মহিলাদের নামাজের নিয়ম

নামাজ নারী এবং পুরুষ সকলের জন্যই ফরজ করা হয়েছে। কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার কাছে যে হিসাব না হবে তা হচ্ছে নামাজের হিসাব। পড়তে হয় পাক-পবিত্র শরীরে। তাই অবশ্যই নামাজের প্রথমে আপনাকে অজু করে নিতে হবে অথবা গোসল।

আপনার পোশাক এবং নামাজের জায়গা অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হবে। এবং পরিপূর্ণ পর্দা সহিত মেয়েদেরকে নামাজ পড়তে হবে। যাকে হাদিসের ভাষায় সতর ঢাকা বলা হয়। মেয়েদের ছোট ঢাকা বলতে প্রথমে মুখমন্ডল এবং হাত-পা ছাড়া সবকিছু ঢেকে রাখা কেউ বোঝানো হয়।

আরো পড়ুনঃ ইসলাম শব্দের অর্থ জানুন

তারপরে কেবলার দিকে মুখ করে দাঁড়াতে হবে নামাজের সময় আপনি যেখানে সেজদা দিবেন আপনার চোখ ঠিক সেই জায়গায় রাখুন। এরপর আপনার পায়ের আঙ্গুলগুলো কেবলার দিকে সোজা করে রাখতে হবে। তারপর মহিলাদের দুই হাত কাঁধ বরাবর সমান উচ্চতায় রাখতে হবে। মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম

এরপরে দুই হাত বুকের উপর সমান করে মারতে হবে ডান হাতে থাকবে বাম হাতের উপরে। তারপরে সূরা ফাতিহার সাথে যে কোন একটি ছড়া পড়ে রুকুতে যাবে। রুকু থেকে উঠে সেজদা দেয়া যাবে এবং সেজদার পরে আবার উঠে দাঁড়াতে হবে। তারপরে আবারও একই নিয়মে বুকের উপরে হাত বাঁধতে হবে।

মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ত

মহিলারা পরিপূর্ণ পর্দা অবস্থায় ঈদের নামাজের নিয়ত করতে পারবেন। অবশ্যই জামাতের সহিত মহিলারা ঈদের নামাজ আদায় করবে। মহিলাদের ঈদের নামাজ আদায় করা তার নামাজের নিয়ত করা একটি নফল ইবাদত। তাই মহিলারা ঈদের নামাজ একাকি না পড়ে অবশ্যই দলগতভাবে জামাতের সহিত নামাজ পড়বে। ঈদের নামাজের নিয়ত বাত্রা হবে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সঙ্গে ইমামের পিছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য শুরু করতেছি তারপরে আল্লাহু আকবার বলে শুরু করবে। মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম আরো জেনে নিই।

মহিলারা কি ঈদের নামাজ ঘরে পড়তে পারবে

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন মহিলারা কি ঈদের নামাজ ঘরে পড়তে পারবে? নাকি ঈদের নামাজের জন্য মহিলাদের মসজিদ বা ঈদগা গিয়ে জামাতে অংশগ্রহণ করতে হবে? এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর হল ঈদের নামাজ একটি অত্যাবশকীয় সুন্নাহ। ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য অবশ্যই মহিলারা ঈদগাহে যাবেন এবং খুতবা শুনবেন।

আরো পড়ুনঃ আরবি ১২ মাসের নাম বাংলা অর্থসহ ও আরবি বারের নাম সহ জানুন

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী এবং পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে ঈদের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করার আদেশ দিয়েছেন। তাই এখানে বলা যায় মহিলারা যদি ঈদের নামাজ পড়তে চাই তবে অবশ্যই জামাতের সহিত নামাজ পড়তে হবে।

মহিলাদের ঈদগাহে যাওয়া

ঈদের নামাজে অবশ্যই মহিলারা ঈদগাহে যাবেন। এতে কোন সন্দেহ নাই। এবং ঈদগাহে গিয়ে খুতবা শুনবেন জামাতের সহিত নামাজ আদায় করবেন। এবং অবশ্যই সে মোনাজাতে শরিক হবে। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর আদর্শ অনুযায়ী নারী পুরুষ সকলের জন্যই ঈদের নামাজ পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঈদের নামাজ মহিলাদের জন্য সুন্নত এবং এটি একটি নফল ইবাদত। আশা করি বিষয়টি এবার বুঝতে পেরেছেন।

ঘরে ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম

মসজিদ ভাটা ছাড়া ঘরে ঈদের নামাজ পড়া যাবে কিনা? এ বিষয়ে বলা হয়েছে হ্যাঁ অবশ্যই যাবে তবে শর্ত পাওয়া যায় যে, ইমাম ছাড়া কমপক্ষে তিনজন বয়স্ক পুরুষ থাকতে হবে। বাড়ির খোলা উঠানে বাড়ির ছাদে অথবা যে কোন খোলা জায়গায় ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে। ঈদের নামাজ বছরে দুইবার হওয়ার জন্য অনেককেই নামাজ পড়ার নিয়মটি ভুলে যান। ঈদের নামাজ খোলা স্থানে পড়াই সর্বোত্তম এবং সুন্নাত। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম ঈদের নামাজ সর্বদা খোলা জায়গায় পড়তেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঈদের নামাজ মসজিদে আদায় করা যাবে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায় মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম ও নিয়ত হল সম্পন্ন একটি নফল ইবাদত। ঈদের নামাজ পড়ার জন্য স্বয়ং হযরত মুহাম্মদ সাঃ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে ঈদের নামাজ জামাতের সহিত আদায় করতে বলেছেন। ঈদের দিনে অবশ্যই সকালবেলা গোসল করে তারপর অজু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জামা কাপড় পড়ে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করতে হবে।

এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে তারা সম্পূর্ণ পর্দার সহিত ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করবে। মহিলাদের ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম ও নিয়ত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি বুঝতে পেরেছেন।

Assalamu Alaikum! Hello world, I am Md. Hafijul Islam (mhihafijul). I am a Bangladeshi SEO expert. And I have been writing high quality Bengali content for a long time. I can write very nice SEO friendly articles. Along with that we do onpage seo, offpage seo and technical seo in proper guidelines. For which every article I write ranks on Google's fast page.

Sharing Is Caring:

Leave a Comment

error: Content is protected !!