মক্কাবাসী হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-কে ‘আল-আমীন’ (বিশ্বস্ত) নামে আখ্যায়িত করেছিল

মক্কাবাসী হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-কে ‘আল-আমীন’ (বিশ্বস্ত) নামে আখ্যায়িত করেছিল

মক্কাবাসী হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-কে ‘আল-আমীন’ (বিশ্বস্ত) নামে আখ্যায়িত করেছিল। তারা তাঁকে সর্বপেক্ষা লোভনীয় এবং সর্বোচ্চ সম্মানীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাঁর মানসিকতায় কোন উচ্চ আকাঙ্খা বা গর্বিত-ভাবের লেশমাত্র ছিল না। তাই তিনি অবজ্ঞাভরে তাদের তোষামোদপূর্ণ সুবিধাদানের কথার কোন জবাব দিলেন না। কাবাঘরের পুনঃনির্মাণের প্রেক্ষিতে যে কলহ দেখা দিয়েছিল সেই মুহূর্তেই তিনি কেবল সাধারণ মানুষের সংগে মেলামেশা করেছিলেন—এই কারণে যে, কলহের বিষয়বস্তু ছিল সাধারণের স্বার্থ সম্পর্কিত। তাঁর বিয়ের তারিখ তেকে ১৫ বছরের মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটেছিল। 

তিনি কিভাবে সময় কাটাতেন তা সকলের জানা দরকার। আল্লাহপাক তাঁকে এককভাবে। থাকার প্রতি অনুরক্ত করে সৃষ্টি করেছিলেন এবং তিনিও একা একা ইতস্তত বেড়িয়ে বেড়ানোতে যত আনন্দ পেতেন তার চেয়ে বেশি আনন্দ অন্য কিছুতেই পেতেন না। যতদূর দৃষ্টি যায় ততদূর পর্যন্ত বিস্তৃত শূন্য-প্রান্তরে তিনি প্রায়ই ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করতেন। এই ধরনের পছন্দের কারণ কি? এটা সন্দেহাতীত যে, তিনি মরুভূমির বিষণ্ণ পরিমণ্ডলে তাঁর বাদিয়ায় অতিবাহিত করা বাল্যকালের আনন্দদায়ক স্মৃতিগুলোকে একত্রিত করতে পারতেন। এছাড়াও, তিনি তাঁর আত্মার মহান গুণাবলীর জন্যে এখানে আনন্দ পেতেন। আরো একটি কারণ এই যে, নিঃসংগ হয়ে বেড়িয়ে না বেড়ালে আরবদের ধর্মীয় ও নৈতিক ভ্রান্তিগুলো তাঁর দৃষ্টিতে ধরা পড়তো না।

আরবরা সবচেয়ে বেশি মাত্রায় ছিল অভিজাত, গর্বিত, স্বাধীন ও সাহসী জাতি। আরবদের অতিথিপরায়ণতা এমন সুন্দরভাবে দৃষ্টান্তস্বরূপ হয়ে আছে যাকে আজও অতিক্রম করা যায় না । তাদের মধ্যে কোন এক হাতেমতাইকে অতিথিপরায়ণতার রাজপুত্র হিসেবে আখ্যায়িত করা যেতে পারে।

প্রকৃতির দান হিসেবে তারা যে বাগ্মিতা এবং কবিত্ব-শক্তির অধিকারী ছিলেন, সেই গুণের বলে তারা পৃথিবীর যে-কোন উচ্চমানের বক্তা এবং কবিদের সাথে নিজেদের তুলনা করতে পারতেন সর্বোপরি তাদের কবিতায় বীরোচিত ঘটনাবলীর প্রশংসা-গীতি গাওয়া হতো। তাদের উদার ও উচ্চ মনের কারণে তারা ভালবাসা-নিঃসৃত আনন্দ এবং বেদনাকে হৃদয়ের অনুরাগ দিয়ে কবিতায় ঠাঁই দিতেন। এই ধরনের বিষয়বস্তু নির্বাচন তাদের মনোমুগ্ধকরী ভাষার সাথে আশ্চর্যজনকভাবে সমন্বিত হতো।

বিশেষভাবে ‘ওকাজ’ নামক স্থানে তাদের যে সাধারণ মেলা বসতো, সেই মেলাতে তারা কবিতা প্রতিযোগিতা করার সুযোগ পেত। বিজয়ীর কবিতাকে একদল হর্ষোৎফুল্ল লোক হাততালি দিয়ে প্রশংসিত করতো। বিজয়ী তা মন দিয়ে শুনতো। অতঃপর ঐ কবিতাটিকে সোনার অক্ষরে লিখে কাবাঘরের প্রাচীর গাত্রে টাঙিয়ে দেয়া হতো। কবিতার ঐ বিজয়কে ‘আল-মালাকুত’ বলা হতো। বিজয়ী সাতটি কবিতা কবিদের কাছে দেওয়া হতো এবং তারা পড়ে প্রাচীন বেদুঈন কবিদের কবি-প্রতিভা কতটা উন্নত হয়েছে তা নির্ধারণ করতেন।

আমরা একইসংগে তাদের সহজাত এ সব মহৎ গুণাবলীর যেমন প্রশংসা করছি, সেইসংগে তাদের দোষেরও নিন্দা করছি। তাদের মহান পূর্বপুরুষ হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর একেশ্বরবাদী ধর্মের কথা তারা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েছিল, যদিও তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের স্বহস্তে নির্মিত কা’বাঘরের প্রতি অবিচল ভক্তি প্রদর্শন করতো। যাহোক, তারা বিধর্মী বলে গণ্য হয়েছিল। বহু মূর্তিকে এক আল্লাহ’র অংশীদার হিসেবে তাঁর সংগে যুক্ত করেছিল।

প্রত্যেক পরিবার এবং প্রত্যেক গোত্রের এক একটা প্রিয় বিগ্রহ (ইষ্টদেবতা) ছিল। এ যুগেই কাঠ ও পাথরে নির্মিত ৩৬০টি ভ্রান্ত-দেবতা কা’বাঘরে স্থাপন করে তাঁর মর্যাদা হানি করেছিল। এই পৌত্তলিকতার সংগে আর যে জঘন্য কুসংস্কার চালু ছিল তাহলো— জুয়া খেলা, তীর নিক্ষেপ খেলা, মদ্যপান এবং জাদু প্রদর্শন। এসব খেলা তাদের বুদ্ধিবৃত্তির দারুণ অবনতি ঘটিয়েছিল। এগুলোকে বাদ দিলে তাদের অন্যান্য গুণের প্রশংসা না করে পারা যায় না। সকল নিষেধকে অবজ্ঞা করে এবং ভদ্রতার সকল ধারণার প্রতি সম্মান না দেখিয়ে তারা যতজন মহিলাকে খাওয়াতে পরাতে পারতো ততজনকেই বিয়ে করতো। বিধবারা তাদের স্বামীর সম্পত্তির অধিকারিণী হতো। এ পর্যায়ে সৎ-মায়েদের সংগে সৎ ছেলেদের প্রায়ই বিদ্বেষ লেগে থাকতো।

আরও বেশি যে বিষয়টি জঘন্যরূপে ঘৃণিত, তাহলো ‘ওয়াদুল বিনাত’ (কন্যাদের জীবন্ত কবর দেয়া)। সম্মান প্রদর্শন করার ক্ষেত্রে অনুভূতির অবক্ষয় এবং ভয়ের কারণে তারা তাদের কন্যাদের জীবন্ত কবর দিত। তারা এই ভেবে ভয় পেত যে, তাদের কন্যারা যদি ব্যভিচারিণী হয়, কিংবা তাদের যদি কোন শত্রুপক্ষ ধরে নিয়ে যায় তাহলে তাদের পরিবারের মুখে চুনকালি পড়বে। এছাড়াও, বহু অস্বাভাবিক পিতা (জারজ পিতা) তাদের কন্যা সন্তানদের থেকে রেহাই পাওয়াকেই বেশি পছন্দ করতো।

সেই কারণে তারা তাদের অবৈধ কন্যাদের জন্মের সাথে সাথেই জীবন্ত কবর দিত সংক্ষেপে বলতে গেলে একথাই বলতে হত যে, আরবরা তাদের বাহ্যিক আড়ম্বর আভিজাত্যের মানসিকতা এবং কল্পিত গর্ববোধের কারণেই সকল প্রকার প্রতিষ্ঠিত কর্তৃত্ব ও নিয়মের বিরোধী ছিল। ফলে তাদের মধ্যে সখ্যতা এবং অগ্রগতি কোনদিনই ফলপ্রসূ হয়নি। তাদের পরিবারে এবং গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং নিষ্ঠুর কলহ লেগেই থাকতো। এর ফলে মনে হতো সমগ্র আরবদেশ যেন রক্তের সাগরে ভাসছে।

এ সব ভুলের জন্যে হযরত মোহাম্মদ (সঃ) মনে মনে ব্যথিত হতেন। এ সব সুদূরপ্রসারী কদাচারের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার পথ দেখতে না পেয়ে তিনি ঐ সব কদাচারি লোকদের প্রতি ভালভাবে দৃষ্টি দিতেন না। যেভাবে সামুদ এবং আদ শহরের অধিবাসীরা পাপাচারের কারণে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল, সেভাবেই আল্লাহর অভিসম্পাত তাঁর দেশবাসীর প্রতি অম্লান্তভাবে নেমে এসেছিল কিনা তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তা করতেন। এ প্রেক্ষিতে তিনি একটি নির্জন স্থান বেছে নিয়ে সেখানে বসে ভাবতেন। এভাবে মানুষের সান্নিধ্য থেকে বহু দূরে সরে যাওয়ার ফলে তিনি তাঁর মন থেকে পুরানো দিনের ঘৃণ্য স্মৃতিকথাগুলোকে সরিয়ে দিতে পারতেন।

এই সময়েই তিনি নিজেকে একনিষ্ঠ ধর্মীয় চিন্তা ও সাধনায় নিমগ্ন করলেন। এতে তাঁর আত্মার উন্নতি হল। এ সময়ে প্রবাহিত খেয়ালী পানিধারার গতি অনুসরণ করে তিনি বালি খাতে ঘুরে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। আবার কখনও-বা ডালু উচ্চ পাহাড়ের উপরে আরোহণ করে তার শীর্ষদেশে দেহ এলিয়ে শুয়ে থাকতেন। আর অনতিক্রম্য দিগন্তের প্রান্ত পর্যন্ত শূন্যের বিস্তৃতির গভীরতায় চোখের দৃষ্টি ও ভাব-কল্পনাকে নিবন্ধ করে দিতেন ।

এরূপ মনোগ্রাহী শূন্য জায়গায় ঘন্টার পর ঘণ্টা নিবন্ধ থেকে তিনি নীরবে ধ্যানমগ্ন থাকতেন। এখানকার আলোর সাগরে যেন মৃত্যুর নীরবতা শাসন করে চলেছে। এই ধ্যানমগ্নতার মধ্য থেকে তিনি দুনিয়া ও আখেরাতের যে উপাদনগুলো আহরণ করেন সেগুলো খুবই রহস্যময়, অজানা, অভাবনীয়, বিশ্বজনীন এবং অদ্বিতীয় শক্তির পরিচয়বাহী। তিনি পাহাড় ও বালুস্তূপের দিকে অপলক দৃষ্টি মেলে চেয়ে থাকতেন। এই পাহাড় ও বালুস্তূপগুলো প্রথমে ছোট ছোট গোলাপী নুড়ি পাথরে আচ্ছাদিত ছিল।

পরে যখন উদিত সূর্যের কিরণ তাদের ওপর পড়লো তখন তারা চমকদার মূল্যবান পাথরে রূপান্তরিত হলো। এরপর সূর্য যখন মধ্যগগনে এলো তখন তার চোখ-ধাঁধানো আলো ক্লান্ত পৃথিবীতে বিস্তৃত হলো। এ সময় পৃথিবীকে মৃতদেহের মত স্তব্ধ মনে হলো। তারপর সন্ধ্যালগ্নে সূর্য যখন পশ্চিমদিকে ঢলে পড়ে তখন সে তার সোনালী আলোর বন্যা সারা পৃথিবীর উপর প্রবাহিত করে দেয়। এ দেখে মনে হয়, সে যেন চায় যে তার বিদায় সবার মনে দুঃখের প্রলেপ লাগিয়ে দেয়। অবশেষে কবুতরের বক্ষদেশের মত শুভ্র জ্যোতির্ময় রুমাল জড়ানো অবস্থায় চাঁদের আগমন ঘটে। চাঁদ তার চমক ছড়িয়ে আকাশ-গাঙে পাড়ি দিয়ে আসে। তার চমকের ফুলকি-কণাগুলো অসংখ্য তারায় রূপ পরিগ্রহ করে।

পরে গর্বিত স্তম্ভগুলো মাথা তুলে দাঁড়ায়। শান্ত আবহাওয়ায় বালিয়াড়ি পরম আনন্দে এ স্তম্ভগুলোকে দাঁড় করে তোলে। তাদের মাথা তুলে দাঁড়ানো দেখে মনে হয় যে, তারা নীল আকাশকে স্পর্শ করতে চায়; কিংবা ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ দিনে গিরিখাতের তলদেশ থেকে নির্গত ক্রুদ্ধ জলস্তম্ভ অন্ধকার, বিদ্যুৎবাহী কুহেলিকাকে আঘাত হানতে চায়। মাঝে মাঝে মেঘের কাফেলা দেখা যায়। তাদের দেখলে মনে হয় ভেড়ার দল উচ্চ পাহাড় থেকে বাত্যা-তাড়িত হয়ে তারা দ্রুত বেগে ছুটে চলেছে। এ মেঘ থেকে নির্গত বৃষ্টি-কণাগুলো তাদের জন্মস্থানকে অর্থাৎ ঐ উচ্চ পাহাড়কে শিশির-সিক্ত করে তোলে। অন্যান্য দিন বালু পাথরবাহিত ঝড় পাহাড়ের নগ্ন শীর্ষদেশে শুরু হয়, বিক্ষুব্ধ স্রোতধারা বমন করে; এবং উপত্যাকায় ঘটায় বজ্রপাত।

এই দুর্ধর্ষ উপাদানগুলোর সংগে তুলনা করলে দেখা যায় যে, এরা সর্বশক্তিমানের প্রতিষ্ঠিত আইনের বিরুদ্ধে কখনো যেতে সাহস করে না। আর এই দুর্বল উদ্ধত মানুষগুলোকে দেখলে কি মনে হয়! হযরত মোহাম্মদ (সঃ) দেখেছিলেন যে, দুর্বল ও তুচ্ছ জিনিসগুলো মরীচিকার মত ফেনিল বাতাসে মিলিয়ে যায়। এই জিনিসগুলো জাগতিক প্রথার উপর নির্ভরশীল।

এই মরু-জীবনের বিদায় থেকেই হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর শিক্ষা-জীবন শুরু। এটা তাঁর হৃদয় থেকে সকল দুনিয়াবি চিন্তা মুছে দিয়ে পবিত্র করে তুলেছিল। এজন্যেই এর নামকরণ করা হয়েছে ‘সাফাত উস্ সাফা’ বা ‘পবিত্রতার মধ্যে পবিত্রতা’। ক্রমে ক্রমে সীমাহীন মরুপ্রদেশের আত্মা তাঁর আত্মার মাঝে স্থান লাভ করে এবং তাঁর কাছে সকল জগতের প্রভুর অসীম মহিমা এনে দেয়। সবার চেয়ে অননুভূত প্রকৃতির গোপনীয়তা তাঁর অন্তরের অন্তঃস্থলে একীভূত হয়ে যায়; এবং তাঁর মনের মধ্যে এমন এক অশরীরি সত্য দানা বেঁধে ওঠে যা তিনি মুখ দিয়ে প্রকাশ করে ফেলতে প্রায় উদ্যত হয়েছিলেন। বিশিষ্ট চিন্তাবিদ কার্লাইল এই পর্যায়ে তাঁর প্রশংসা করা থেকে দূরে থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, “এইরূপ একজন মানুষের বাণী আল্লাহ্’র তরফ থেকে উত্থিত বাণীরই সরাসরি বহিঃপ্রকাশ। মানুষ অবশ্যই শুনবে যে, কোনকিছুই বায়বীয় নয়।

পাশ্চাত্যের প্রাচ্যবিদ গবেষকরা এ তথ্য কিভাবে দিলেন যে, মরুপ্রান্তর থেকে বিদায় নিয়ে হযরত মোহাম্মদ (সঃ) তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং বিস্তার করে লাভবান হলেন? এই সব গবেষকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এমনও ইংগিত দিয়েছিলেন যে, তিনি নিঃসংগভাবে থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন শরীফ রচনা করেছিলেন। তাঁরা কি এই আসমানী কিতাবে দেখেছেন যে, এর মধ্যে কোন মানবীয় প্রণালীর দ্বারা পূর্বপরিকল্পিত পরিকল্পনা আছে? তাঁরা কি জেনেছেন যে, প্রত্যেকটি সূরাকে এককভাবে ধরলে, ঐ একক সূরা কোন ঘটনার সংগে মিলে গেলে যে ঘটনা অনেক ঘটেছে পরে— প্রায় দুই দশক সময়ের মধ্যে যা হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর পক্ষে আগেই দেখা অসম্ভব ছিল?

আরব জাতি সম্পর্কে তাঁদের অজ্ঞতার কারণে হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর দীর্ঘ ধ্যানমগ্নতার অন্য কোন ব্যাখ্যা তাঁরা খুঁজে পাননি। এই বিজ্ঞজনেরা যদি বেদুঈনদের মাঝে অনেকদিন ধরে বাস করতেন তাহলে হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর এরূপ ধ্যানমগ্নতার যথার্থ ব্যাখ্যা খুঁজে পেতেন। মরুভূমির অধিবাসীরা পাহাড়ের উপরে প্রায়ই গুঁড়িগুঁড়ি হয়ে ধ্যানে বসতেন এবং মরুভূমির শূন্যতার পানে তাকিয়ে থাকতেন।

তাঁদের এরূপ নিশ্চল হয়ে বসে থাকার অবস্থাকে কিছু পর্যটক বোকামি বলে বর্ণনা করেছেন। তবে এরূপ দৃশ্য দেখে তাঁরা বেশ মজাই পেতেন। সর্বোপরি যদি তাঁরা নিজেরা এইভাবে থেকে চরম আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পেতেন— এ আনন্দ কেবলমাত্র মরুভূমির বিশালত্ব দর্শনের মাধ্যমেই সম্ভব— তাহলে তাঁরা স্বীকার করতেন যে, তাঁদের অতীন্দ্রিয় অনুভূতিতে এমন একটা বিস্ময়কর সুযোগ তাঁরা পেতেন যার ফলে বর্ণিত ধ্যানমগ্নতার এত বড় নোংরা অপব্যাখ্যা তাঁরা কখনও করতেন না।

এই ধ্যানমগ্নতা ছিল ধাতু গলাবার পাত্রবিশেষ, যে পাত্রে নববর্ধিষ্ণু আবেগময় অনুভূতি ও চিন্তা গলে একীভূত হয়ে পড়ে; এবং সেখান থেকে নির্গত হয়ে এক পবিত্র অবস্থায় মিলিত হয়। এই ধ্যানমগ্নতাকে বিদ্যুৎ-সঞ্চয়কারী যন্ত্রের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এই ধ্যানমগ্নতার দ্বারা অতিপ্রাকৃতিক শক্তিকে সঞ্চয় করা যায়। অতিপ্রাকৃতিক শক্তিকে দেখা এবং জানা যায় না। তবে এ শক্তি ধ্যানমগ্নতার মধ্যে নিহিত থাকে, যেমন আগুন নিহিত থাকে কাষ্ঠ-খণ্ডের মধ্যে। এই শক্তি ধ্যানমগ্নতার মধ্যে সংগৃহীত হলে তাকে কেউ সন্দেহ করতে পারে না, এমনকি যার মধ্যে এই শক্তি থাকে সেও না।

কিন্তু ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র স্ফুলিংগ বিচ্ছুরিত হলে তার লেলিহান শিখা তৎক্ষণাৎ আকাশের পানে উত্থিত হয়ে সারা দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দেয়। ঐ সময়ে এটা স্থিরীকৃত সত্য যে প্রাচ্যবিদরা হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-কে যে রূপে মূল্যায়ন করেছিলেন সেরূপে মূল্যায়নে তিনি মূল্যবান ছিলেন না। এইভাবে তিনি মূল্যায়িত হওয়ার কোন পরিকল্পনাও করেননি। তাঁর ‘খিলওয়া’-র মধ্যে ধ্যানের অনুরাগ ছিল, পূর্বানুরাগ ছিল না। পরিশেষে, হযরত মোহাম্মদ (সঃ) বহু আলোকোজ্জ্বল স্বপ্ন দেখতে পেতেন এবং খুব রহস্যময় ডাক শুনতেন। ঐ নির্ধারিত সময় আল্লাহ্ তাঁর নির্বাচিত রাসূলকে তাঁর (আল্লাহ্’র) ঐশ্বর্যের সংগে পরিচয় করাতেন।

হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছিলেন

“প্রথম ওহী নাযিল হওয়ার দশমাস আগে উজ্জ্বল স্বপ্ন দেখে আমার ঘুম ভেঙে যায়। এই স্বপ্ন ছিল ঊষাকালের উজ্জ্বল সূর্য-রশ্মির মত। যখন আমি ঘরে থাকতাম না, তখন ‘ও মুহাম্মদ!, ও মোহাম্মদ! বলে আমার নাম ধরে কে যেন ডাকতেন। এই ডাক শুনে আমি পিছন ফিরে তাকাতাম, তারপর তাকাতাম ডানদিকে, তারপরে বামদিকে। কিন্তু পাথর আর লতাগুল্ম ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেতাম না।

ঐ সময় আমার মন ভয়ার্ত বিরক্তিতে ভরে উঠতো। আমি জাদুকর এবং ভবিষ্যত বক্তাদের ঘৃণা করতাম। তাই এ কথা ভেবে ভয় পেতাম যে, আমি কি অজ্ঞাতসারে এবং নিজ ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের মত হয়ে পড়লাম না-কি! এই শব্দ প্রাণহীন বস্তু থেকে বের হচ্ছে মনে হওয়াতে ভাবলাম, বোধহয় আড়াল থেকে কোন জ্বীন ঐ শব্দ করছে। জ্বীনদের কাজ হলো জাদুকর ও ভবিষ্যত-বক্তাদের কাছে স্বর্গীয় বিষয়বস্তু সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করা এবং তাদের ঘৃণ্য পেশায় সহায়তা দান করা।”

Assalamu Alaikum! Hello world, I am Md. Hafijul Islam (mhihafijul). I am a Bangladeshi SEO expert. And I have been writing high quality Bengali content for a long time. I can write very nice SEO friendly articles. Along with that we do onpage seo, offpage seo and technical seo in proper guidelines. For which every article I write ranks on Google's fast page.

Sharing Is Caring:

Leave a Comment

error: Content is protected !!