লং খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সঠিক গুণাগুণ জেনে নিন

Rate this post

লং খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সঠিক গুণাগুণ সম্পর্কে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে ধরব আজকে আপনার সামনে। আপনি যদি লং খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চান তাহলে অবশ্যই লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিন একবার। লংকে বই-পুস্তকের ভাষায় লবঙ্গ বলা হয়।

মসলা জাতীয় এক প্রকারের খাবার। লবঙ্গে একটি মসলা হওয়ার ফলে এটি গুড়া করে অথবা আস্ত তরকারির ভিতরে দিয়ে রান্না করে খাওয়া হয়। রঙের গন্ধ কড়া পরিমানে থাকে তার জন্য এটি দুই একটি দানা দিলেই যে কোন খাবারে এর গন্ধ উঠে যায়।

লং বর্তমানে পৃথিবীর সর্বত্রই ব্যবহার করা হয় তবে বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার ও মাদাগ্রাসকরে লবঙ্গ চাষ করা হয়। পাশাপাশি আমাদের বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কাতেও এ লং চাষ করা হয়।

লং এ রয়েছে ইউজেনাল যার জন্য লবঙ্গের সুগন্ধ অতিরিক্ত। এছাড়াও রয়েছে অ্যাসিড, ভ্যানিলিন, অ্যাসিটাইল, বেটাকারোফাইলিন, স্টিগ্মাস্টেরল, সেস্কুইটার্পিন, ফ্ল্যাভানয়েড, টেরপেনয়েড ইত্যাদি যার জন্য লং খাওয়ার উপকারিতা ও রয়েছে অনেক। তাহলে চলুন আর বেশি কথা না বাড়ি এখন আমরা লং খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিই্

লং খাওয়ার উপকারিতা কি

লং খাওয়ার উপকারিতা কি? লং খাওয়ার বিশেষ উপকারিতা হল মহিলাদের বেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, পেট ফাঁপা ভালো করা, বদহজম, পেটের গ্যাস ও বায়ু এমনকি কলেরা ও আন্ত্রিক রোগ ভালো করার জন্য লং বেশি উপকারী একটি খাদ্য উপাদান।

লং খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
লং খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

এছাড়া বুকের ধড়ফড়ি ও বুক ব্যথার জন্য লং এর তেল কিন্তু খুবই উপকারী একটি মাসআলা। এছাড়াও দাঁতের ব্যথা কমায়, সর্দি কাশি ঠান্ডা লাগা কিংবা কব জমে থাকা ভালো করে, অ্যাজমা বা গলা ফুলে উঠা ভালো করে, শ্বাসকষ্টের জন্য খুব উপকারী কাজ করে থাকে লং।

আরো পড়ুনঃ ত্বীন ফল এর উপকারিতা, ত্বীন ফল খাওয়ার নিয়ম

তাহলে আশা করি এখন আপনারা লং খাওয়ার উপকারিতা কি সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য গুলো জানতে পেরেছেন। আর বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য সঙ্গে থাকুন। তাহলে চলুন এখন পয়েন্ট আকারে লং খাওয়ার উপকারিতা গুলো জেনে নিনঃ

  1. সর্দি–কাশি ও ঠাণ্ডা লাগা কমায়ঃ সর্দিকাশির মহৌষধ হিসেবে লং বহু বছর ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। লং চিবিয়ে রস গিলে খেলে বা লং মুখে রেখে চুষলে সর্দি, কফ, ঠাণ্ডা লাগা, অ্যাজমা, গলাফুলে ওঠা, রক্ত পিত্ত আর শ্বাস কষ্টে সুফল পাওয়া যায়।
  2. কামোদ্দীপক ও যৌন রোগে উপকারিঃ লং কামোদ্দীপক। এর সুবাস অবসাদ দূর করে, শরীর ও মনের ক্লান্তি ঝরিয়ে দেয়। যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে।
  3. রক্ত পরিশোধন করেঃ লং শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদানগুলো সরিয়ে রক্তকে পরিশোধন করতে ভূমিকা রাখে। রক্তকে পরিস্কার করে।
  4. শরীর ফোলা কমায়ঃ লং খেলে ঠাণ্ডার জন্যে শরীরের কোনো অংশ ফুলে ওঠা কমে যায়।
  5. সাইনাস ইনফেকশনের প্রকোপ কমায়ঃ সাইনোসাইটিস রোগে লং খুব উপকারি। সাইনোসাইটিসের রোগীদের চিকিৎসায় লং ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। লং বিদ্যমান ইগুয়েনাল নামে একটি উপাদান আছে, যা সাইনাসের কষ্ট কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
  6. মাথা ব্যথা ও মাথা যন্ত্রণা কমায়ঃ ধোঁয়া, রোদ এবং ঠান্ডার জন্য শ্লেষ্মা বেড়ে নানা ধরনের মাথা ব্যথা বা মাথার রোগ দেখা দিতে পারে। মাথা ব্যথা কমাতে লং এর উপকারিতা অপরিসীম।
  7. মাড়ির ক্ষয় বা দাঁতের ব্যথা রোধেও সাহায্য করে।
  8. মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে লং তুলনাহীনঃ মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে প্রতিদিন রাতে ঘুমাবার সময় ২টি লং মুখে দিয়ে চিবিয়ে ঘুমাতেহবে। কয়েকটি মুখে রেখে চিবালেই আপনার নিঃশ্বাস হয়ে উঠবে তরতাজা।
  9. আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কমায়ঃ লং এ উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান আর্থ্রাইটিসের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে। প্রসঙ্গত, জয়েন্টপেইন কমানোর পাশাপাশি পেশির ব্যথা, হাঁটুতে, পিঠে বা হাড়ের ব্যথা এবং ফোলা ভাব কমাতেও এই ঘরোয়া ঔষধিটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
  10. পেট ফাঁপা ও পেটের অসুখ উপসম করেঃ পেট ফাঁপা রোগ নিরাময়ে লং ব্যবহার হয়। লং এনজাইম বৃদ্ধি করে বদ হজম, অগ্নি মান্দ্য (খিদে না হওয়া), পেটের গ্যাস ও বায়ু, পেট ব্যথা, অজীর্ণ, এমনকি কলেরা বা আন্ত্রিক রোগের উপকার করে।
  11. দাঁতের ব্যথা কমায়ঃ লং দাঁতের ব্যথা দূরকরে। মাড়ির ক্ষয় নিরাময় করে। লং এ উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন কিছু বিক্রিয়া করে যে নিমেষে দাঁতের যন্ত্রণা কমে যায়। প্রায় সব টুথপেস্টের কমন উপকরণ এই লং।
  12. বমি বমি ভাব দূর করেঃ ট্রেনে বা বাসে যাওয়ার সময় যদি মাথা ঘুরতে থাকে ও বমি এসে যায়, তাহলে মুখে একটি লং রেখে সেই রস চুষলে বমি ভাব ও মাথা ঘোরা কমে যাবে। গর্ভবতী মায়েরা সকালের বমিবমি ভাব দূর করতে লং চুষতে পারেন। লং এর সুগন্ধ বমিবমি ভাব দূর করে।
  13. পিপাসা রোগে উপকারিঃ যারা পিপাসা রোগে প্রায়ই আক্রান্ত হন; বারবার পানি পান করতে হয়। তাদের সকালে ও বিকালে লং খেলে-পিপাসা চলে যাবে।
  14. খাবারে রুচি বৃদ্ধি করেঃ বিভিন্ন রোগ বিশেষ করে পেটের রোগে এবং জ্বরে ভোগার পরে খাবারে অরুচি দেখা দেয়। ভাত-রুটি, মাছ-মাংস, মিষ্টান্ন বা যে কোন উপাদেয় খাবারে পর্যন্ত রুচি হয় না সেক্ষেত্রে লং চুর্ণ সকালে খালি পেটে দুপুরে খাবারের পরে খেলে খাবারে রুচি ফিরে আসবে।
  15. প্রচণ্ড স্ট্রেস ও উৎকণ্ঠা কমায়ঃ এক টুকরো লং মুখে ফেলে চুষে চুষে খেয়ে ফেলুন। পান করতে পারেন লং এর চাও। মেজাজ ফুরফুরে হয়ে উঠবে।
  16. হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ হজমে সহায়তা করে এমন এনজাইমনিঃসরণের মাধ্যমে এবং অ্যাসিড ক্ষরণের মাধ্যমে লং আমাদের হজম ক্ষমতা সক্রিয় করে তোলে। এরাফ্লাটুলেন্স, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, ডিসপেপসিয়া এবং নসিয়া কমাতে সাহায্য করে। এটি শরীরের রক্ত প্রবাহেরও উন্নতি ঘটায়।
  17. বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান বিদ্যমানঃ লং এর মধ্যে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিকারসিনোজেনিক, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়া, অ্যান্টিইনফ্লেমেটোরি, হেপাটো-প্রোটেক্টিভসহ আরো অনেক বায়ো অ্যাক্টিভ উপাদান পাওয়া যায়। লং কলেরা, যকৃতের সমস্যা, ক্যান্সার, শরীরে ব্যথা ইত্যাদি থেকে শরীরকে রক্ষা করে। অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ যে কোনও ধরনের জীবাণুকে মেরে ফেলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
  18. ডায়াবেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখেঃ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি হতে পারে না। গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, লং এর রস শরীরের ভিতরে ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে ও কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, এবং রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শকর্রার মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা কমে যায়। নিয়মিত লং খেয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।
  19. ত্বকের সংক্রমণ সারাতে কাজে আসেঃ আসলে লং উপস্থিত ভোলাটাইল অয়েল শরীরে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে জীবাণুদেরও মেরে ফেলে। ফলে সংক্রমণ জনিত কষ্ট কমতে একেবারেই সময় লাগে না। ঘা পচড়া হতে পারবে না।
  20. লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ায়ঃ লং উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর দেহের মধ্যে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শুধু লিভার নয়, শরীরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, এই প্রকৃতিক উপাদানটিতে একাধিক হেপাটোপ্রটেকটিভ প্রপার্টিজও রয়েছে, যা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
  21. মুখের রোগ সারিয়ে তুলে ও মুখের দুর্গন্ধ দূর করেঃ মাড়ির সমস্যা, যেমনঃ জিনজিভাইটিস ও পেরিওডনটাইটিস হলে লং ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। লং এর মুকুল(মাথার অংশ) ওরালপ্যাথোজেনের বৃদ্ধিরোধ করে আপনার মুখটি কেসকল রোগের হাত থেকে রক্ষা করে।
  22. জ্বরের প্রকোপ কমায়ঃ লং থাকা ভিটামিনকে এবং ই, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে শরীরে উপস্থিত ভাইরাসে রাসব মারা পরে। ফলে ভাইরাল ফিবারের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার হয়ে যাওয়ার পর সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।

লং খাওয়ার নিয়ম

আমরা বিশেষ করে রান্নার মসলা হিসেবে লং ব্যবহার করে থাকি। তবে রান্নার মসলা ছাড়াও আর কি কি ভাবে লং খাওয়া যায় তার কিছু বিবরণ নিন্মে দেওয়া হল। আসুন এক নজরে দেখে নিন লং খাওয়ার নিয়ম গুলিঃ

  1. প্রতিদিন ৫-৬ টি লং গরম জলে ফুটিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন, এতে সর্দি কাশি থেকে মুক্তি পাবেন।
  2. সর্দি-কাশি লাগলে লং চায়ের সঙ্গে খাওয়া যায়।
  3. গরম জলে ফুটিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
  4. মধুর সঙ্গে লং খাওয়া যায়।
  5. উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা থেকে থাকলে লং চিবিয়ে খেতে পারেন।
  6.  তবে সকাল বেলায় খালি পেটে লং খেলে উপকার বেশি পাওয়া যায় ইত্যাদি।

লং খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

লং খাওয়ার উপকারিতা অনেক থাকলেও এ রয়েছে বেশ কিছু অপকারিতাও। আপনি যদি আমার এই লেখাটি এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জেনে গেছেন লং খাওয়ার উপকারিতা গুলো কি কি সেই সম্পর্কে। তবে সব জিনিসেরই যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমন রয়েছে অপকারিতা আর এখন আমি আপনাকে সেই অপকারিতা সম্পর্কে জানিয়ে দিব।

আরো পড়ুনঃ রিভোট্রিল কি কাজ করে জেনে নিন

প্রত্যেক খাবারের যেমন ভালো গুন থাকে তার পাশাপাশি তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও থাকে। সেই অনুযায়ী লং এর ভালো দিক এর পাশাপাশি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। তাই অতিরিক্ত পরিমাণে লং খাওয়ার ফলে কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে তা নিম্নে তালিকা ভুক্ত করা হল। আসুন একনজরে দেখে নিন লং এর অপকারিতা গুলিঃ

  1. বেশি পরিমাণে লংখেলে এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  2. নিয়মিত খেলে আপনার অতিরিক্ত হাড়ে চুলকানি বেড়ে যেতে পারে।
  3. অতিরিক্ত পরিমাণে লং খেলে শরীরের রক্ত পাতলা হয়ে যেতে পারে।
  4. অতিরিক্ত পরিমাণে লং খেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
  5. লিভারের ক্ষতি হতে পারে।
  6. রক্ত জমাট বাধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে ইত্যাদি।

তাহলে আশা করি প্রিয় পাঠক বৃন্দ আমার এই সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ে আপনি কিছুটা হলে উপকৃত হয়েছেন। আরও এমন লেখা পেতে অবশ্যই ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন নিয়মিত।

Assalamu Alaikum! Hello world, I am Md. Hafijul Islam (mhihafijul). I am a Bangladeshi SEO expert. And I have been writing high quality Bengali content for a long time. I can write very nice SEO friendly articles. Along with that we do onpage seo, offpage seo and technical seo in proper guidelines. For which every article I write ranks on Google's fast page.

Sharing Is Caring:

Leave a Comment

error: Content is protected !!