কা’বাঘর যখন পুনঃনির্মিত হলো (৬০৫ খ্রিঃ)

Rate this post

অগ্নিকাণ্ডে আংশিক ধ্বংস হওয়ার পরে কা’বাঘরকে খুব কষ্ট করে রক্ষা করা হয়েছিল। কা’বাঘরের ছাদ ধসে পড়েছিল এবং উম্মুক্ত ভাঙ্গা পথ দিয়ে চোরেরা পবিত্র কা’বাঘরে প্রবেশ করার সুবিধা পেয়েছিল । তারা খানায়ে কা’বার অভ্যন্তরে রক্ষিত রত্নরাজির কিছু অংশ চুরি করে নিয়েছিল । ঐসব রত্নরাজি ছিল হজ্বযাত্রীদের অনুদান ।

কা’বাঘরকে ভালভাবে মেরামতের কাজ জরুরি হয়ে পড়লো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কা’বাঘরের দেয়ালগুলোও নিজেদের ভার বহন করতে না পেরে ধসে পড়েছিল। এ অবস্থায় সবকিছুকে ধূলিসাৎ করে দেয়া ছাড়া কোন গত্যন্তর ছিল না । পবিত্র কা’বাঘরের পুনঃনির্মাণ কাজ ছাড়া আর অন্য কোন কারণে একেবারে ধ্বংস করে ফেলা ভয়ংকর পাপকার্য বলে বিবেচিত হতো।

বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করার পর এবং কিছু সুস্পষ্ট অলৌকিক ঘটনবলীর দ্বারা মোহমুক্ত হয়ে পরিশেষে কোরাইশ বংশীয় কিছু লোক সিদ্ধান্ত নিয়ে পুরানো দেয়ালগুলোকে ভূমি থেকে অপসৃত করে নিলেন। তারপর পুরানো ভিত্তির উপরে পাথরের খণ্ড বসিয়ে একটার সাথে আরেকটার সামঞ্জস্য রেখে দেয়াল তৈরি করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করলেন। কোরাইশদের প্রত্যেকটি গোত্রের লোক পুনঃনির্মাণ কাজে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

সকল শ্রমিক পারস্পারিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সৃষ্ট আগ্রহে উদ্দীপ্ত হয়ে খুব শিগির দেয়ালগুলোকে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা পর্যন্ত গেঁথে তুললো। এই উচ্চতাতেই বিখ্যাত ‘আল হাজরুল আওয়াদ’ কালো পাথরটিকে সন্নিবেশিত করা হয়েছিল। এই পাথরটিকে যথাস্থানে স্থাপন করার সম্মান কে পাবে? এই বিষয়ে সমাধানের কোন সহজ পথ দেখা গেল না। এর ফলে প্রত্যেক গোষ্ঠী নিজের নিজের সদগুণ এবং বংশের মহানুভবতা তুলে ধরে প্রাধান্য নেয়ার চেষ্টা করলো। এ বিষয়ে তাদের আলাপ-আলোচনা এতই উত্তপ্ত হয়ে উঠলো যে, মারাত্মক কিছু ঘটে যাওয়ার আশংকা দেখা দিল। ক্রোধান্ধ হয়ে গোষ্ঠীগুলো পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে রণমূর্তি ধারণ করলো। বণি আবেদ-এর গোষ্ঠী বনি-আদি বিন-কার গোষ্ঠীর সংগে হাত মিলিয়ে রক্তভরা একটি গামলা এনে হাজির করলো এবং গামলার ঐ রক্তে হাত ভিজিয়ে এই বলে শপথ নিল যে, তারা বরং লড়াই করে মৃত্যু বরণ করবে তবুও তারা যথাস্থানে পাথর বসানোর সুযোগ অন্যের কাছে হস্তান্তর করবে না। কারণ তারা মনে করে যে, পাথর বসানোর অধিকার শুধু তাদেরই আছে ।

পক্ষ ও প্রতিপক্ষ গোত্রের লোকজন মারমুখী হয়ে সজাগ দৃষ্টিমেলে চারদিন চাররাত ধরে তদারকির কাজে মগ্ন থাকলো। অবশেষে তাদের বয়োজ্যেষ্ঠ আবু উম্মাইয়া উচ্চঃস্বরে বলে উঠলেন, “সত্বর সময় আসবে যখন সবকিছুর নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।” তিনি এই বলে প্রস্তাব রাখলেন যে, “যে ব্যক্তি প্রথম আমাদের এখানে আসবেন তাঁকে বিচারক মান্য করা হবে এবং যে বৈরিতা আমাদের সংহতি বিনষ্ট করতে যাচ্ছে, তিনি তার সমাধান করে দিবেন।”

এই উপদেশ একগুঁয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিদের অসন্তুষ্ট করেনি। তাই তারা এই উপদেশ মানতে সম্মত হলো। ঠিক সেই মুহূর্তে তারা দেখলো যে, তাদের দিকে একজন ৩৫ বছর বয়স্ক ব্যক্তি এগিয়ে আসছেন। ইতোপূর্বে তাঁকে তারা ‘আল-আমিন’ (বিশ্বস্ত) বলে স্বীকার করে নিয়েছিলেন। তিনিই আমাদের হযরত মোহাম্মদ (সঃ)। এর চেয়ে বেশি বড় সৌভাগ্য হতে পারে না এজন্যে যে, তারা একমত হয়ে হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর মত একজন ব্যক্তিকে সালিশীর কাজে বিচারক নিযুক্ত করতে পারলো। তারা এই বিবাদের বিচারের ভার তাঁর উপর অর্পণ করলো। এরপর তারা তাদের পরস্পর-বিরোধী বক্তব্য পেশ করতে শুরু করলো। সেই সব বক্তব্য শুনে হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কেবল বললেন, “একটা বড় চাদর এনে জমিনে বিছানো হোক।”

যখন তারা তাঁর আদেশ পালন করলো, তখন তিনি কালো পাথরটিকে নিজের হাতে নিয়ে ঐ বিছানো চাদরের মাঝখানে রাখলেন। তারপর হযরত মোহাম্মদ (সঃ) বললেন, “প্রত্যেক দলের প্রধান প্রধান ব্যক্তিরা এসে চাদরের কোণা ধরুন। যখন তারা চাদরের কোণা ধরলো তখন তিনি পুনরায় বললেন, “যে পর্যন্ত দেয়াল গাঁথা হয়েছে সেই উচ্চতায় চাদরকে তুলে আনা হোক।” তারা তাঁর আদেশ মান্য করলো। এবং যখন কালো পাথরটিকে রাখার উচ্চতায় চাদর উঠানো হলো হযরত মোহাম্মদ (সঃ) তখন পাথরটিকে নিজের হাতে তুলে নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে দিলেন।

তাঁর উপস্থিত বুদ্ধির গুণে বিবাদের সকল কারণ দূরীভূত হয়ে গেল। কোন বিরোধী দলকেই বিশেষ প্রাধান্য না দিয়ে তিনি সকলকেই সমানভাবে সন্তুষ্ট করলেন ; এবং উদ্ধত আরবীয়দের বিনা রক্তপাতে মিলন ঘটালেন। আরবীয়দের ইতিহাসে এই প্রথম একজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এরূপ সম্মানের অধিকারী হলেন ।

কালো পাথরে মাথা ছাড়িয়ে দেয়াল ছাড়িয়ে আরও উপরে উঠে গেল । এ কাজে সকল শ্রমিকরা বন্ধুভাবাপন্ন হয়ে কাজ করেছিল। জেদ্দা উপকূলে যে জাহাজ-ডুবি হয়েছিল, সেই জাহাজটির লোহা-লক্কড় দিয়ে একটি ঢালু সমতল ছাদ তৈরি করা হলো। যখন কা’বাঘর মেরামতের কাজ শেষ হলো তখন সমগ্র কা’বাঘরকে মিশর দেশীয় অতি কোমল মসৃণ সূক্ষ্ম কাপড় দিয়ে আচ্ছাদিত করা হলো।

পরবর্তী বছরগুলোতে ইয়েমেন দেশের ডোরাকাটা কাপড় দিয়ে কা’বাঘরের আচ্ছাদন (গিলাপ) তৈরি করা হয়েছিল। আরও পরে হায্যাজ-বিন-ইউসুফ কর্তৃক কিসওয়া নামক কালো সিল্কের কাপড় দিয়ে কা’বাঘরের মনোরম আচ্ছাদন তৈরি করা হয়েছিল। এখনও ঐ কালো সিল্কের আচ্ছাদনে কা’বাঘর ঢেকে রাখা হয়। প্রত্যেক বছর এ আচ্ছাদন বদলানো হয়।

পরের পর্বে আরো থাকছে…

Assalamu Alaikum! Hello world, I am Md. Hafijul Islam (mhihafijul). I am a Bangladeshi SEO expert. And I have been writing high quality Bengali content for a long time. I can write very nice SEO friendly articles. Along with that we do onpage seo, offpage seo and technical seo in proper guidelines. For which every article I write ranks on Google's fast page.

Sharing Is Caring:

Leave a Comment

error: Content is protected !!