জাল নোট চেনার উপায় বাংলাদেশ ব্যাংক তিন উপায়ে চিনুন জাল টাকা

অনেক সময়ই আমরা বাজারে জাল নোট পেয়ে থাকি এতে করে আমাদের বিভিন্ন রকম হারে*সমেন্ট এর শিকার হতে হয়। আজকে আমি জাল নোট চেনার উপায় বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পর্কে বিস্তারিত খুঁটিনাটি তথ্য তুলে ধরব এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে। আপনি যদি আমার এই আর্টিকেলটি সম্পন্ন করেন তাহলে জাল নোট চেনার বিষয়ে আর কোন ধরনের সন্দেহ থাকবে না।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উৎসবগুলোকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে বেশিভাগ জাল নোট বাজারে পাওয়া যায়। যেমন কোরবানি ঈদে বাংলাদেশে অনেক গরু বেচাকেনা হয় তখন গরুর হাটে জাল নোট পাওয়া যায় বেশিরভাগ। তাহলে চলুন এখন আমরা জেনে নেব জাল নোট চেনার উপায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি সম্পর্কে।

পোস্ট সুচিপত্রঃ জাল নোট চেনার উপায় বাংলাদেশ ব্যাংক তিন উপায়ে চিনুন জাল টাকা

  • ভূমিকা
  • জাল নোট চেনার উপায়
  • জাল টাকা চেনার অ্যাপ
  • জাল টাকা শনাক্তকরণে uv রশ্মির ব্যবহার
  • জাল নোট সনাক্তকরণ
  • আসল টাকার বৈশিষ্ট্য
  • লেখকের শেষ কথা

ভূমিকা

আমরা জানি যে বাংলাদেশের বড় বড় উৎসবগুলোকে কেন্দ্র করে কিংবা টার্গেট করে বিভিন্ন কুচক্রী মহল বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দেন। এতে করে একজন সাধারণ নাগরিকের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।জাল নোট তিনটে না পারার কারণে একজন সাধারণ নাগরিক এই টাকা অনায়াসে নিয়ে নেন এবং পরবর্তীতে তিনি পড়েন বিভিন্ন রকম বিপদের মুখে। তাই এ ধরনের বিপদ থেকে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই আমাদের জাল নোট চেনার উপায় জানতে হবে।

আর আজকে আমি আপনাদের সুবিধার্থেই জাল নোট চেনার উপায় বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পর্কে এই আর্টিকেলটি সাজিয়েছি। আপনি যদি একটু মনোযোগ দিয়ে সময় নিয়ে আইডি স্টেপ বাই স্টেপ পড়েন তাহলে জাল নোট চেনার উপায় জেনে যাবেন। তাহলে চলুন এখন আমরা সে সম্পর্কে একে একে জেনে নেব বিস্তারিত তথ্যগুল।

জাল নোট চেনার উপায়

জাল নোট চেনার উপায় রয়েছে অসংখ্য তার মধ্যে সেরা তিনটি উপায় এখন আমি বলে দেবো আপনাদেরকে। আমরা জানি যে বিশেষ করে ১০০০ টাকার নোট এবং ৫০০ টাকার নোট জাল নোট পাওয়া যায়। আর এই ১ হাজার টাকার নোট চেনার উপায় এক রকম রয়েছে এবং ৫০০ টাকার নোট চেনার উপায় আরেক রকম রয়েছে। তবে দুইটি টাকার নোটি চেনার উপায় কিছুটা একই রকম হলেও সামান্য ভিন্ন রকম রয়েছে। তাহলে চলুন এখন আমরা জেনে নিই জাল নোট চেনার উপায়।

প্রথমতঃ আপনার কাছে যদি একটি স্মার্ট ফোন থেকে থাকে তাহলে আপনি মোবাইল ফোন দিয়েই জাল নোট চিনতে পারবেন খুব সহজে। তার জন্য অবশ্যই আপনাকে ১ হাজার টাকার নোট হোক বা ৫০০ টাকার নোট। টাকাটি উল্টিয়ে নেবেন টাকার পিছনে পারে দেখবেন বাম কর্নারে ইংরেজিতে 500 টাকা লেখা আছে কিংবা 1000 হাজার টাকা লেখা আছে। সে জায়গাটির ছবি তুলবেন আপনার মোবাইল ফোনে।

আরো পড়ুনঃ ফেসবুকে নিজেকে জনপ্রিয় করার উপায় এবং সুন্দরি মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব

ছবি তোলার পর জুম করে দেখবেন যেটি আসল টাকার নোট সেটি জুম করলে লেখার মধ্যে ২৪১ বার বাংলাদেশ লেখা পাবেন। আপনি হয়তো ২৪১ বার গণনা করতে পারবেন না কিন্তু সেখানে দেখতে পাবেন অসংখ্য ছোট ছোট করে বাংলাদেশ বাংলাদেশ লেখা রয়েছে ইংরেজিতে। আর নকল টাকাতে বাংলাদেশ লেখা থাকবে না থাকলেও এটি থাকবে অ-স্পষ্ট কিংবা ঝাপসা ঝাপসা।

দ্বিতীয়তঃ আপনি টাকাটিকে সামনাসামনি ধরবেন, সামনে ধরার পর একদম সোজা উপরে ডান দিকে ইংরেজিতে বড় করে 1000 বা 500 টাকা সেটি ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখবেন সোজাসুজি থাকলে হলুদ কালারের দেখাবে এবং একটু সাইডে বাঁকা করলে কালো কালারের দেখাবে হঠাৎ কালার চেঞ্জ হয়ে যাবে। কিন্তু আপনি যদি নকল টাকা এরকম করে দেখেন তাহলে সেটির কোন ধরনেরই রং পরিবর্তন হবে না একই রকম দেখাবে।

তৃতীয়তঃ এটি হচ্ছে জাল নোট চেনার একেবারে সহজ উপায়। আপনি যদি একজন সাধারণ মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার কাছে ফোন নাও থাকতে পারে। কিংবা আপনি যদি একটু বয়জৌষ্ঠ হয়ে থাকেন তাহলে আপনার চোখের সমস্যা থাকতে পারে আপনি চোখ দিয়ে ভালোভাবে স্পষ্ট নাও দেখতে পারেন। তাই এখন আমি যেটি বলব সেটি হল জাল নোট চেনার সবচেয়ে সহজ উপায়।

আপনার কাছে যদি কেউ ৫০০ টাকার নোট কিংবা ১০০০ হাজার টাকার নোট জাল দিয়ে দেয় তাহলে টাকাটি হাতে নেওয়ার পরেই আপনি মুখ থেকে কিছুটা থু*তু নিয়ে টাকার কোনাতে ঘুষবেন তাহলে দেখবেন জাল টাকা হলে সেটি উঠে যাবে। আর যদি টাকাটি আসল হয় তাহলে থু*তু দিলে কেন পুরো পানিতে ডুবালেও টাকার কোন ধরনের কোন কিছুই উঠবে না বরঞ্চ টাকার উপরে লেগে থাকা ময়লা গুলো উঠে যাবে।

থু*তু ছাড়াও আপনি যদি পানি পান হাতের কাছে তাহলে পানি দিয়ে টাকার উপর ঘঁষে দেখতে পারেন একই পদ্ধতিতে। তাহলে দেখবেন সেই টাকাটির উপরের রং গুলো উঠে যাবে জাল টাকা হলে। আর আসল টাকা হলে তো কিছুই উঠবে না। আশা করি এখন আপনি জাল নোট চেনার উপায় জেনে গেছেন এরপর থেকে আপনি নিজে নিজেই জাল নোট চিনতে পারবেন।

জাল টাকা চেনার অ্যাপ

অনেকে গুগলে সার্চ করে জানতে চেয়ে থাকেন জাল টাকা চেনার অ্যাপ লিখে। তবে আদক কোন জাল টাকা চেনার অ্যাপ সঠিক তথ্য দিতে পারে কিনা বলে জানা নেই কিন্তু কেউ বলতে পারবে না যে এই অ্যাপটি ১০০ পার্সেন্ট সঠিক রেজাল্ট দেয়। তবে আপনি চাইলে কাউন্টার ফিট মানে ডিটেক্টর অ্যাপ (Counterfeit Money Detector) টি দিয়ে জাল টাকা চেনার প্রক্রিয়া গুলো জানতে পারবেন। বর্তমানে কাউন্টার ফিট মানে ডিটেক্টর হল (Counterfeit Money Detector) জাল টাকা চেনার অ্যাপ।

আপনি চাইলে গুগল থেকে এই অ্যাপটি ডাউনলোড করে অথবা গুগল প্লে স্টোর থেকে ইন্সটল দিয়ে আপনার ফোনে জাল টাকা চেক করে দেখতে পারেন। তবে সবচেয়ে ভালো হয় আমি উপরে যেগুলো অর্থাৎ যে তিনটি ধাপ বলে দিয়েছি সে তিনটি ধাপের মধ্যে যে কোন একটি ধাপ অবলম্বন করে জাল টাকা চিনতে পারেন খুব সহজে।

জাল টাকা শনাক্তকরণে uv রশ্মির ব্যবহার

আমরা জানি যে জাল টাকা শনাক্তকরণে uv রশ্মির ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এখানে uv বলতে আলটা ভায়োলেন বোঝানো হয়েছে। এই আলটা ভায়োলেন অর্থাৎ uvরশ্মি হল এমন একটি রোশমি যা টাকার উপর প্রয়োগ করা হলে সেটি আলোর বিকিরণ ঘটায়। এর ফলে আসল টাকার উপরে থাকা সকল ধরনের তথ্যচিত্র গুলো ফুটে উঠে এবং দেখা যায় স্পষ্ট ভাবে যা খালি চোখে দেখা কখনোই সম্ভব নয়।

আরো পড়ুনঃ ডাবল গ্যাসের চুলার দাম বাংলাদেশ ২০২৪

আর যদি জাল টাকা হয় তাহলে ইউভি রশ্মি দিয়েও কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটানো যায় না এবং এতে কোন ধরনের আলোর বিকিরণ ঘটে না। ফলে এই জাল টাকা শনাক্তকরণে uv রশ্মির ব্যবহার করা হয়ে থাকে এছাড়াও পাসপোর্ট শনাক্ত করানোর জন্যও ইউভি রশ্মির ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যদিও এটি ব্যয়বহুল তাই এটি দিয়ে চাইলে যে কেউ জাল টাকা শনাক্ত করতে পারে না।

কেননা জাল টাকা শনাক্তকরণে uv রশ্মির ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই এ মেশিন থাকা দরকার। আর এই মেশিনের দাম অনেক বেশি তাই এটি শুধুমাত্র বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে থাকে। ফলে শুধুমাত্র তারাই ইউভি রশ্মির ব্যবহার করতে পারেন এবং তার মাধ্যমে জাল টাকা সনাক্ত করতে পারেন। তাহলে আশা করি বিষয়টি এখন বুঝতে পেরেছেন।

জাল নোট সনাক্তকরণ

জাল নোট সনাক্তকরণ বলতে চেনার উপায় বোঝানো হয়। আর আমরা উপরে আগেই বলে দিয়েছি যে জাল নোট সনাক্তকরণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে uv রশ্মির ব্যবহার। রশ্মি বলতে আমরা আলো বুজে থাকি। এমন এক ধরনের আলো যে আলোর উপর টাকা রাখলে খুব সহজেই জাল নোট শনাক্তকরণ করা যায়। জাল নোট হলে ইউভি রশ্মির আলো দিয়েও সে টাকাতে কোন ধরনের প্রতিফলন ঘটে না।

আমরা জানি যে টাকা বানানোর সময় টাকার ভিতরে বিশেষ কিছু ছবি এবং চিত্র দেওয়া হয় যা খালি চোখে দেখা যায় না আর এগুলো জাল নোট সনাক্তকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসল টাকা চেক করলে দেখা যায় যে টাকার উপরে বিভিন্ন ধরনের চিত্র এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। আশা করি জাল নোট সনাক্তকরণ বিষয়টি এখন আপনি বুঝতে পেরেছেন।

আসল টাকার বৈশিষ্ট্য

এখন আমরা জানবো আসল টাকার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে। আসল টাকার অসংখ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে পানিতে ডুবালেও কোন ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় না কিংবা এই টাকার কোন ধরনের রং উঠে যায় না। এতে করে খুব সহজেই বুঝা যায় যে এটি আসল টাকার নোট।এছাড়াও একটি কর করে আসল টাকার নোট দিয়ে ছেড়ে দিলে আবার সেটির সোজা হয়ে যায় খুব সহজে।

আসল টাকার আরো একটি বৈশিষ্ট্য হলো এর অপোদের সাইডের ইংরেজি লেখা টাকার মানের যে কোন স্মার্টফোনে ছবি তুলে জুম করে দেখলে দেখা যাবে সেখানে ছোট ছোট করে অসংখ্য বাংলাদেশ ব্যাংক লিখা রয়েছে ইংরেজিতে। যা স্পষ্ট ভাবে বোঝা যাবে সামান্য একটু জুম করলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী সেখানে ২৪১ বার বাংলাদেশ ব্যাংক লেখাটি থাকে ইংরেজিতে। এছাড়াও যে কোন নোটের সামনে পার নিলে ওপরের ডান সাইডে ইংরেজিতে যে টাকার মান লেখা থাকে সেটি একটু নড়াচড়া করলে বিভিন্ন কালার পরিবর্তন হয়।

আরো পড়ুনঃ উইন্ডোজ ১১ এর সেরা কিছু গোপন ফিচারগুলো জেনে নিন

এতে করে আসল টাকা চেনা যায়। আশা করি এখন আপনি আসল টাকার বৈশিষ্ট্য গুলো ভালোভাবে বুঝতে পেরে গেছেন এবং জানতে পেরেছেন। এখনো যদি আপনি এ বিষয়ে বুঝতে না পেরে থাকেন তাহলে জাল নোট চেনার উপায় বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পর্কে যেকোনো ধরনের প্রশ্ন নিতে কমেন্টে জানাতে পারেন আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

লেখকের শেষ কথা জাল নোট চেনার উপায় নিয়ে

জাল নোট চেনার উপায় বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পর্কিত আজকের আমার এই আর্টিকেলটি সাজিয়েছিলাম। আপনি যদি আমার এই লেখাটি সম্পূর্ণ পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই যান নোট চেনার উপায় বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখন জেনে গেছেন। আপনি চাইলে এখন নিজে নিজেই খুব সহজেই জাল টাকা চিনতে পারবেন। আপনাকে কেউ আর জাল টাকা দিয়ে হয়রানি স্বীকার করতে পারবেনা কিংবা নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন করতে পারবে না।

এই আর্টিকেলটিতে আমি যেই গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ধাপের কথা বলে দিয়েছি জাল নোট চেনার উপায় এর ব্যাপারে সে তিনটি ধাপ ফলো করলে আপনি এক মুহূর্তের মধ্যেই জাল নোট চিনতে পেরে যাবেন। এছাড়া আমি সর্বশেষে বর্ণনা করে দিয়েছি আসল টাকার বৈশিষ্ট্য কি কি হয় এবং কি কি দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন যে এটি আসল টাকা। সব মিলিয়ে আজকের আমার এই আর্টিকেলটি যদি আপনার উপকারে এসে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ প্রিয় পাঠক বিন্দু ভালো থাকবেন।

Assalamu Alaikum! Hello world, I am Md. Hafijul Islam (mhihafijul). I am a Bangladeshi SEO expert. And I have been writing high quality Bengali content for a long time. I can write very nice SEO friendly articles. Along with that we do onpage seo, offpage seo and technical seo in proper guidelines. For which every article I write ranks on Google's fast page.

Sharing Is Caring:

Leave a Comment

error: Content is protected !!