হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর স্ত্রীদের নাম ও বয়স

সুপ্রিয় পাঠক বৃন্দ আপনাদের মধ্যে অনেককেই কৌতুহলবশত হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর স্ত্রীদের নাম জানতে চাই। আজকে আমি এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর স্ত্রীদের নাম নামসহ সকল খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জানিয়ে দেবো আপনাদেরকে তাই অবশ্যই দেখাতে মনোযোগ দিয়ে পড়ে।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর স্ত্রীদের নাম জানার আগে অবশ্যই জানতে হবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম কয়টি বিবাহ করেছিলেন। হযরত মুহাম্মদ সাঃ মোট ১৩ টি বিবাহ করেছিলেন এবং ১৩ জন স্ত্রীর নাম সহ বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরব এখন তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর স্ত্রীদের নাম

প্রিয় পাঠক বৃন্দ আপনারা হয়তো মনে মনে অধীর আগ্রহে এই লেখাটি হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর স্ত্রীদের নাম যদি জানা যেত। এবং কেন কিভাবে তিনি বিবাহ করেছিলেন তার সকল বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে তাহলে খুব ভালো হত। আজকে আমি হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর স্ত্রীদের নাম ও বয়স

এবং তিনি কি কারণে ১৩টি বিবাহ করেছিলেন সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব এই লেখাটির মাধ্যমে তাই অবশ্যই দেখাতে মনোযোগ দিয়ে ,পড়ুন। লেখার শুরুতেই তাহলে চলুন এখন আমরা সঠিকভাবে জেনে নেই হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর স্ত্রীদের নাম এবং বিবাহের তারিখ সময়কাল।

বিবাহ সংখ্য হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর স্ত্রীদের নাম বিবাহ জীবন
০১ খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ ৫৯৫–৬১৯
০২ সাওদা বিনতে জামআ ৬১৯–৬৩২
০৩ আয়িশা বিনতে আবু বকর ৬২৩–৬৩২
০৪ হাফসা বিনতে উমর ৬২৫–৬৩২
০৫ জয়নব বিনতে খুযায়মা ৬২৫–৬২৭
০৬ জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিস ৬২৮–৬৩২
০৭ রামালাহ বিনতে আবি সুফিয়ান ৬২৮–৬৩২
০৮ সাফিয়া বিনতে হুওয়াই ৬২৯–৬৩২
০৯ মায়মুনা বিনতে আল-হারিস ৬২৯–৬৩২
১০ জয়নব বিনতে জাহশ ৬২৭–৬৩২
১১ উম্মে সালামা ৬২৫–৬৩২
১২ রায়হানা বিনতে জায়েদ (উপপত্নী) ৬২৭–৬৩১
১৩ মারিয়া আল-কিবতিয়া(উপপত্নী) ৬২৮–৬৩২

 

প্রিয় পাঠক বৃন্দ আশা করি এখন আপনারা হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর স্ত্রীদের নাম এগুলো জেনে গেছেন। তাহলে চলুন এখন আমরা একে একে জেনে নিব এই ১৩ টি বিবাহের কারণ এবং বিস্তারিত বর্ণনা।

খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ – হযরত খাদীজা (রা)

হয়রত খাদীজার সাথে হয়রত মুহাম্মদ (সা:) এর বিবাহ হয়েছিল তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বয়স পাঁচ ও বিশেষ বছর। আর হয়রত খাদীজার বয়স পঁচালিশ বছর। হয়রত খাদীজা রাদিআল্লাহু আনহা ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রথম স্ত্রী। খাদীজা রাদিআল্লাহু আনহা জীবনে থাকার সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য কোন বিবাহ করেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বয়স যখন পঞ্চাশ বছর তখন হয়রত খাদীজা রাদিআল্লাহু আনহা পঞ্চাশ বছরের বয়সে ইন্তেকাল করেন।

ইতিহাসে হয়রত খাদীজা রাদিআল্লাহু আনহা এর আরও দুটি বিবাহ হয়েছিল। আবু হালা ইবনে যুরারার সাথে তাঁর প্রথম বিবাহ হয়েছিল। আবু হালা রাদিআল্লাহু আনহুমার কাছে হিন্দ নামে একজন ছেলে এবং যয়নব নামে একটি মেয়ে ছিল। আবু হালা মারা গেলে, খাদীজা রাদিআল্লাহু আনহা উত্তম ইবনে আবিদ সাথে তার দ্বিতীয় বিবাহ করেন। উত্তমের কাছে হিন্দ নামে একটি মেয়ে হয়েছিল। উত্তমের মৃত্যুর পর, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে তার তৃতীয় বিবাহ হয়েছিল।

খাদীজা রাদিআল্লাহু আনহা প্রেগন্যান্ট ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দুই ছেলে এবং চারটি মেয়ে জন্ম দিয়েছিলেন। ছেলেদের নাম ছিল: আল কাসিম ও আল তাহের। মেয়েদের নাম ছিল: ফাতিমা, জয়নাব, রুকায়্যা, এবং উম্মে কুলসুম।

সাওদা বিনতে জামআ – হযরত সাওদা (রা)

তিনি প্রথমে হযরত সকরান ইবনে আমরের সাথে হযরত সওদার বিয়ে হয়েছিল। ইসলাম প্রচারের প্রথমিক যুগেই তারা স্বামী স্ত্রী উভয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। হাবশায় দ্বিতীয় হিজরতে তারা উভয়ে অংশগ্রহণ করেন। হাবশা হইতে মক্কায় প্রত্যাবর্তনের কিছু দিন পর সকরান পরলোক গমন করেন। হযরত খাদীজর মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ সাঃ শোকাকুর হয়ে পড়েন। বাড়ী-ঘর এবং শিশু ছেলে-মেয়েদের যত্ন এবং তত্ত্বাবধান করাও অসুবিধা হয়ে দাঁড়ায়।

এই সময় হযরত খাওলা বিনতে হাকীম রাসূলুল্লাহ সাঃ এর কাছে হাযির হয়ে বললেন: এই অবসথা আপনার একজন সহানুভুতিশীল জীবন সঙ্গিনীর প্রয়োজন। রাসূল সাঃ এর সম্মতি নিয়ে খাওলা হযরত সাওদা (রা) এর পিতার নিকট বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যান। হযরত সাওদা (রা) বিয়ের জন্য তার বাবা কোন আপত্তি করেন নি । তাই নির্দিষ্ট সময়ে সাওদা (রা) এর বিবাহ তার মিতা, রাসূলুল্লাহ (সা) এর সাথে চারশত দিরহাম এর বিনিময়ে বিবাহ করিয়ে দেন।

আয়িশা বিনতে আবু বকর – হযরত আয়েশা (রা)

তিনি ছিলেন হযরত আবু বকরের কন্যা। রাসূলুল্লাহ (সা) এর নবুওয়াতের চতুর্থ সনে তার জন্ম হয়। অতি শৈশবে যখ তিনি পুতুল নিয়ে খেলা করতেন তখনই তার বিচক্ষণ দৃষ্টিভঙ্গি, বু্দ্ধিমাত্তার পরিচয় দিয়েছেন। হায়য, নিফাস, প্রসব ও স্বামী সহবাস সম্পর্কে ইসলামী শরীয়তে এমন অনেক বিষয় আছে যা একজন পুরুষ নিজের স্ত্রী ছাড়া অন্য কাউকে বলা সম্ভব না। মূল কথা হলো নারী সুলভ মাসআলাসমূহ প্রচারের জন্য হযরত আয়েশা (রা) এর ন্যায় বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান নারীরই প্রয়োজন ছিল। নবুওয়াতের দশ বছর হযরত আয়েশার বয়স ছিলো ছয় বছর, এই বছরই হযরত খাদীজার (রা) ইন্তেকাল করেন।

হযরত খাদিজার মৃত্যুর পর হযরত খাওলা বিনতে হাকীম রাসূলুল্লাহ (সা) এর সম্মিতক্রমে হযরত আয়িশার মা উম্মু রোমানের নিকট তার বিয়ের প্রস্তাব করেন। এরপূর্বেই হযরত আবু বকার (রাযি) হযরত আয়েশাকে যুবায়ের ইবনে মুতআমের পুত্রের নিকট বিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু যুবায়েরে ইবনে মুতআম আবু বকর (রা) ইসলাম গ্রহণের কারণে নিজের পুত্রের সাথে বিয়ে ভেঙ্গে দিলেন। তাই হযরত আবু বকর রাসূল (সা) এর বিয়ের প্রস্তাবে সম্মতি দিলেন। এবং আয়েশাকে রাসূল (সা) এর সাথে বিয়ে দিয়ে দিলেন

অনেক অমুসলিম বা ইসলাম বিদ্বেষীরা বলে থাকে রাসূল (সা) বাল্য বিবাহ করেছিলেন, আমার উত্তর হলো তখনকার সময় বাল্য বিয়ে ছিলো খুবই সাভাবিক একটি ব্যাপার, তাই আবু বকর হযরত আয়েশাকে যুবায়ের ইবনে মুতআমের পুত্রের নিকট বিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাই আমাদের কোন ঘটনা পর্যালচনা করতে হলে অবশ্যই সেই সময়ের সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে।

বিয়ের পর রাসূলুল্লাহ তিন বছর মক্কায় অবস্থান করেন। অতপর মদিনায় হিজরতের হযরত আয়েশা (রা) রাসূল (সা) এর গৃহে আসেন তখন তার বয়স ছিলো নয় বছর। হাদীস গ্রন্থসমূহে হযরত আয়েশরা (রা) কর্তৃক ২২১০ টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কোন কোন আলেম মনে করেন শরীয়তের বিধানের এক চতুর্থাংশ হযরত আয়েশা (রা) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে। রাসূল (সা) এর সকল স্ত্রীদের মধ্যে তিনিই ইসলামী জ্ঞান ভান্ডারে সবচে বেশি অবদান রেখেছেন।

হাফসা বিনতে উমর – হযরত হাফসা (রা)

তিনি ছিলেন হযরত উমরের কন্যা । রাসূলুল্লাহ (সা) এর নবুওয়াতপ্রাপ্তির পাঁচ বছর পূর্বে তার জন্র হয়। প্রথমে হযরত খুনায়স ইবনে হুযাফার সাথে তার বিয়ে হয়। হযরত হাফসা স্বামীর সাথে হিজরত করে মদিনায় যান। হযরত খুনায়স বদর-যুদ্ধে আহত হয়ে পরে শহীদ হন। হযরত হাফসার গর্ভে হযরত খুনায়সের কোন সন্তানাদি জন্মগ্রহণ করেনি।

হযরত উমরের বীরত্ব ও অসীম সাহসিকাতার অধিকারী ছিলেন। যেমন ছিল তাহার অদম্য সাহস তেমনি ছিল তার অটল সংকল্প। হাফসা বাপের বেটী। তার পিতার মতই সাহসী ও উগ্র স্বভাবসম্পন্ন। এই উগ্র স্বভাবের দরুন একবার রাসূলুল্লাহ (সা) তাকে তালাক দিতে চেয়েছিলেন। তখন হযরত জিবরাঈল বলিলেন “[হে রাসূলুল্লাহ] আপনি তাকে তালাক দিবেন না।

কারণ তিনি খুব রোযা রাখেন এবং রাত্রি জাগরণ করে আল্লাহ তআলার ইবাদত-বন্দেগী করেন”। হযরত মুআবিয়া (রা) এর খিলাফতকালে ৪৫ হিজরীতে ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

জয়নব বিনতে খুযায়মা – হযরত যয়নব (রা)

তাকে ‘উম্মুল মাসাকীন’ অর্থ ‘মিসকীনদের মা’ নামে ডাকা হয়ে থাকে। অতি অতি আনন্দের সাথে গরীব মিসকীনদেরকে খাওয়াতেন। তাই ইসলাম গ্রহণের পূর্বেই তিনি উম্মুল মাসাকীন নামে প্রসিদ্ধ লাভ করেন।

প্রথমে রাসূলুল্লাহ (সা) এর ফুফাতো ভাই হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জহশের সাথে তার বিয়ে হয়। হযরত আব্দুল্লাহ তৃতীয় হিজরীতে ওহুদ যুদ্ধে শহীদ হন।

হযরত আব্দুল্লাহ শহীদ হওয়ার পর তৃতীয় হিজরীতেই রাসূলুল্লাহ (সা) এর সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের দুই তিন মাস পরেই চতুর্থ হিজরীতে তিনি ইন্তিকাল করেন। রাসূল (সা) জীবিত থাকা প্রথমে হযরত খাদিজা পরে হযরত যয়নব ইন্তিকাল করেন। রাসূল (সা) স্বয়ং তার জানাযা পড়ান এবং জান্নাতুল বাকীতে তাকে দাফন করেন।

হযরত উম্মু সালামা (রা)

তার অস্তিত্বের প্রাকৃতিক নাম ছিল হিন্দ। তিনি কুরায়শ প্রভুত্বের প্রখ্যাত সরদার আবূ উমায়্যারের কন্যা ছিলেন। প্রথমে তার বিয়ে হয়েছিল আব্দুল আসাদের পুত্র আব্দুল্লাহের সাথে। আব্দুল্লাহ রাসূলুল্লাহ (সা:) এর ফুফু বাররার পুত্র ছিলেন। হযরত আব্দুল্লাহ ও হযরত হিন্দ পূর্বে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের সাথে একেবারে প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন।

হযরত আব্দুল্লাহ সর্বপ্রথম স্ত্রীকে নিয়ে হাবশা যান। সেখানেই তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন। সেই পুত্রের নাম ছিল সালামা। তার নামের অনুসারেই হযরত আব্দুল্লাহে আব সালামা এবং হযরত হিন্দকে উম্মু সালামা বলা হতো। হাবশা থেকে পরে তারা মক্কা এসেন,

তারপর মক্কা থেকে মদীনা হিজরত করেন। নারীদের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম হিজরত করে মদীনা যান। হযরত আবু সালাম প্রসিদ্ধ অশ্বারোহী ছিলেন। বদর ও ওহুদ উভয় যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন, কিন্তু ওহুদ-যুদ্ধে তিনি সাংঘাতিকভাবে আহত হন এবং এই আহতির পরিণতি হিসেবে তিনি ইন্তেকাল করেন।

হয়রত আবু সালামার ৩ টি পুত্র সন্তান ও ৩ টি কন্যা সন্তান রেখে দুনিয়া ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর পর উম্মু সালামা একা হয়ে পড়েন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ, ধৈর্যশীল, এবং শেধাবী। ফিকহ শাস্ত্রে তার প্রখর জ্ঞান ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা:) এর ইন্তেকালের পর, বড় বড় সাহাবীগণ তার কাছে মাসায়েল জিজ্ঞাসা করতেন।

হয়রত আবু সালামার মৃত্যুর পর, রাসূলুল্লাহ (সা:) হয়রত উম্মু সালামাকে বিয়ের প্রস্তাব জানালেন। কিন্তু তিনি কিছু কারণে বিয়ে করার অপ্রস্তুতি প্রকাশ করলেন।

রাসূল (সা:) উত্তর দিলেন, “তোমরা মনে ঈর্ষাভাব না হওয়ার জন্য আমি আল্লাহের দরবারে দু’আ করব। তোমারা সন্তানরা আমার সন্তানের মতো হবে, সুতরাং তাদের উত্তরদাতা আল্লাহ ও তার রাসূলের উপর নির্ভর করবে। তোমার বয়স আমার বয়সের চেয়ে বেশি। এবং এই বিয়েতে কেউ বাধা দেয়ার কারণ হবে না।” তারপর হয়রত উম্মু সালামা বিয়ের প্রস্তাব স্বীকার করেন। হয়রত আবু সালামার মৃত্যুর পর, হয়রত উম্মু সালামার সন্তানবান্ধবী জীবন শুরু করেন।

হযরত যয়নব (রা)

তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা) এর ফুফু উমায়মার কন্যা। তার পিতার নাম ছিল জইশ। হযরত আব্দুল্লাহ, উবায়দুল্লাহ ও আবু আহমদ, হযরত যয়নবের তিন ভাই ছিলেন। হযরত যয়নবের ভাই-ভগ্নি সকলেই প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। হযরত আব্দুল্লাহ উহুদ যুদ্ধে শহীদ হন এবং তার মামা হযরত হামযার সাথে একই কবরে দাফন করা হয়। উবায়দুল্লাহ স্ত্রী সহ হাবশায় হিজরত করে, এবং সেখানে খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে। উম্মু হাবীবাকে পরিত্যাগ করে। (অতপর, বাদশা নাজ্জাশীর মধ্যস্থতায় রাসূল (সা) এর সাথে উম্মু হাবীবার বিবাহ হয় )

রাসূলুল্লাহ (সা) এর চেষ্টায় প্রথমে হযরত যায়েদ ইবনে হারিসার সাথে হযরত যয়নবের বিয়ে দেয়, হযরত যায়েদ ইবনে হাসির রাসূল (সা) এর পালক পুত্র ছিলেন। তাদের মাঝে অমিল হওয়ার কারণে হযরত যায়েদ তাকে পরিত্যাগ করেন। অতপর রাসূলুল্লাহ (সা) এর সাথে বিয়ে হয়। আর আরবে জাহেলি যুগে পালক পুত্রকে নিজের ঔরসজাত পুত্রের মতো মনে করা হতো। তাই রাসূল (সা) হযরত যয়নবকে বিয়ে করে (পালক পুত্রের) তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বিয়ে করে এই প্রথাকে বিলুপ্ত করেন। ২০ হিজরীতে ৫৩ বছর বয়সে হযরত যয়নব মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

হযরত যুওয়ায়রিয়া (রা)

হযরত যুওয়ায়রিয়া (রা) বনূ মুস্তালিক গোত্রের সরদার হারিস ইবনে যিরারের কন্যা ছিলেন। মুরায়সীর যুদ্ধে তার স্বামী মুসাফি নিহত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হয়ে সাবিত ইবনে কায়েস আনসারীর দাসীতে পরিণত হন। হযরত সাবিত ৯ ইকিয়া স্বর্ণ নিয়ে তাকে মুক্তি দিতে চাইলে। হযরত যুওয়ায়রিয়া (রা) সাহায্য চাওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (সা) এর খিদমতে আসিলেন। এবং রাসূল (সা) ‍মুক্তিপণ আদায় করে তাকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করেন।

এবং রাসুল (সা) তার সম্মতিক্রমে তাকে বিয়ে করেন। মুরায়সী যুদ্ধে মুস্তারিক গোত্রের শত শত লোক দাসদাসীতে পরিণত হয়েছিল। সাহাবীগণ এই বিয়ের সংবাদ শোনতে পেয়ে বলতে থাকলেন। রাসূল (সা) এর শ্বশুর বংশীয় লোকদেরকে দাস-দাসী বানিয়ে রাখা উচি না। তাই তারা সাত শত মুস্তালিককে মুক্ত করে দেন। পঞ্চম হিজরীতে তার বিয়ে হয় এবং ৬৫ বছর বয়সে ৫০ হিজরীর রবীউল আউয়াল মাসে তার ইন্তিকাল হয়। জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

হযরত উম্মু হাবিবা (রা)

হযরত উম্মু হাবিবা (রা) মক্কার প্রসিদ্ধ সরদার আবূ সুফিইয়ানের কন্যা ছিলো। তার প্রকৃত নাম ছিলো রমলা। উম্মুল মুমিনীন হযরত যয়নবের ভাই উবায়দুল্লাহর সাথে তার বিয়ে হয়। এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করে হাবশায় হিজরত করেন। সেখানে হাবিবা নামে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন। তার নাম অনুসারেই তাকে উম্মু হাবিবা বলা হয়।

হাবশায় যাওয়ার পর উবায়দুল্লাহ খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে এবং উম্মু হাবিবাকে তালাক দেন। এই ঘটনায় উম্মু হাবিবা (রা) নিরাশ্রয় হয়ে পরেন। তার এই বিপদ জানতে পেরে রাসূলুল্লাহ (সা) আমর যমরীকে হাবশার রাজা নাজ্জাশীর নিকট উম্মু হাবিবার ব্যাপারে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন। বাদশা নাজ্জাশী আবরাহা নামে এক দাসিকে পাঠিয়ে উম্মু হাবিবাকে এই সংবাদ জানালে, তিনি খুশিতে তার সকল অলঙ্কার দাসীকে পুরস্কার হিসেবে দিয়ে দিলেন এবং তার মামাতো ভাই খালিদ ইবনে সাঈদকে বিয়ের উকিল বানিয়ে নাজ্জাশীর নিকট প্রেরণ করলেন।

সন্ধ্যার পর নাজ্জাশী হযরত জাফর ও অন্যান্য মুসলমানদেরকে সমবেত করে তাদের সামনে বিয়ে পড়িয়ে দেন। বাদশা নাজ্জাশী নিজেই বিয়ের খুৎবা পাঠ করেন। এই বিয়েতে চারশত দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) মহর নির্ধারিত করেন। রাসূল (সা) এর পক্ষ থেকে বাদশা নাজ্জাশী নিজে মহর আদায় করে দেন। অতপর বাদশাহ নাজ্জাশী শুরাহবীল ইবনে হাসানার সাথে তাকে রাসূলুল্লাহ (সা) এর খেদমতে প্রেরণ করেন। সপ্তম হিজরীতে তার বিয়ে হয়। ৪৪ হিজরীতে তিনি মদিনায় পরলোক গমন করেন। মদীনাতে তাকে দাফন করা হয়।

রামালাহ বিনতে আবি সুফিয়ান – হযরত সাফিয়্যা (রা)

হযরত সাফিয়্যা হযরত হারুন (আ) এর বংশধর ছিলেন। তার পিতার নাম ছিল হুয়ায় ইবনে আখতাব। প্রথমে সাল্লাম ইবনে মিশকামের সাথে তার বিয়ে হয়। তারপর দ্বিতীয়বার কিনানার সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েকদিন পর খায়বার যুদ্ধে তার স্বামী, পিতা ও ভাই সব নিহত হয়। এবং তিনি মুসলমানদের হাতে বন্দি হন। যখন সমস্ত কয়েদী একত্রিত করা হলো তখন হযরত দিহয়াতূল কলবী রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট একটি দাসী চাইলেন। তিনি বললেন: আচ্ছা, তুমি দেখে একজন দাসী নিয়ে যাও।

হযরত দিহইয়া হযরত সাফিয়্যাকে পছন্দ করলেন। তখন একজন সাহাবী বললো: হে নবী! যে মেয়েটি নবী বংশে জন্মগ্রহণ করেছে এবং বনু নাযীর ও কুরায়যা গোত্রের সরদারের কন্যা সে মেয়েকে আপনি দিহয়াতুল কালবীকে দান করেছেন। রাসূল (সা) দিহইয়াতুল কালবীকে ডাকলেন এবং তাকে হযরত সাফিয়্যা (রা) পরিবর্তে অন্য একটি দাসী দান করলেন। অতপর তিনি হযরত সাফিয়্যাকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে রাসূল (সা) তাকে বিয়ে করেন।

খায়বার হতে ফিরার পথে সহবা নামক স্থানে রাসূল (সা) হযরত সাফিয়ার সাথে রাত্রি যাপন করেন এবং বিবাহের ওলিমা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) হযরত সাফিয়্যাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। একদিন রাসূলুল্লাহ (সা) হযরত সাফিয়্যার কাছে গিয়ে দেখতে পেলেন, যে তিনি কান্না করছেন। কারণ জিজ্ঞাসা করলে সাফিয়্যা বলেন- হযরত আয়েশা ও হযরত যয়নব বলেছেন- আমরা রাসূল (সা) এর স্ত্রীদের মধ্যে শ্রেষ্টতম।

কারণ আমরা তার স্ত্রী এবং বোন। রাসূল (সা) বললেন: তুমি কেনো বলনি যে, তোমরা আমার চেয়ে উত্তম হতে পারো না। কারণ হযরত হারুন (আ) আমার পিতা, হযরত মূসা (আ) আমার চাচা এবং হযরত মুহাম্মদ (সা) আমার স্বামী। ৫০ হিজরীতে হযরত সাফিয়্যার ইন্তিকাল হয় এবং জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মায়মুনা বিনতে আল-হারিস – হযরত মায়মুনা (রা)

হযরত মায়মুনা (রা) সম্ভ্রান্ত বংশের মেয়ে ছিলেন। তার পিতার নাম ছিলো হারিস, তিনি ছিলেন মক্কা নগরীর হিলাল গোত্রের লোক। তার মা হিন্দ বিনতে আউফ ছিলেন ইয়েমেনের হিমার গোত্রের নারী। তার প্রথমে মাসউদ সকফীর সাথে বিয়ে হয়। অতপর আবু রুহমা তাকে বিয়ে করে। আবু রুহমের মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ (সা) এর সাথে তার বিয়ে হয় । এটাই রাসূল (সা) এর শেষ বিয়ে। হযরত আব্বাস (রা) এই বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তিনিই এই বিয়ে পড়ান।

কাযা উমরার সময় ‘সরফ’ নামক স্থানে বিয়ে হয়। এখানেই হযরত মায়মুনা (রা) এর সাথে রাসূল (সা) এর মিলন হয়। ৫১ হিজরীতে উক্ত ‘সরফ’ নামক স্থানেই তার মৃত্যু হয়। এবং এখানেই তাকে দাফন করা হয়। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস তার জানাযা পড়ান। এবং তাকে কবরে রাখেন। হযরত আব্দুল্লাহ তার ভাগনে ছিলেন।

মারিয়া আল-কিবতিয়া (উপপত্নী)

সপ্তম হিজরীতে খ্রিস্টান মিশরের রাজা মুকাওকসকে রাসূলুল্লাহ (সা:) এর সেবার জন্য প্রেরণ করা হয়। তার গর্ভেই রাসূলুল্লাহ (সা:) এর পুত্র ইব্রাহীম জন্ম লাভ করেন। ইব্রাহীমের মৃত্যু সন্ধ্যা সাতের হিজরী সালে ঘটে এবং তাকে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়।

রায়হানা বিনতে জায়েদ (উপপত্নী)

তিনি কুরাইশ বংশী বা নাইর বংশী ইহুদীর কন্যা ছিলেন। বিদায় হজ্জের পর, দশম হিজরী বর্ষে, তার মৃত্যু হয় রাসূল (সা:) এর সামনে এবং তাকে জান্নাতুর বাকীতে দাফন করা হয়।

সাফিয়া বিনতে হুওয়াই – হযরত নসীফা

তিনি উম্মুল মুমিনীন হযরত যয়নব বিনতে জাহশের দাসী ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) কে হিবা করেছিলেন।

Assalamu Alaikum! Hello world, I am Md. Hafijul Islam (mhihafijul). I am a Bangladeshi SEO expert. And I have been writing high quality Bengali content for a long time. I can write very nice SEO friendly articles. Along with that we do onpage seo, offpage seo and technical seo in proper guidelines. For which every article I write ranks on Google's fast page.

Sharing Is Caring:

Leave a Comment

error: Content is protected !!