জমির দলিল কত প্রকার ও কি কি হয়ে থাকে কোন দলিলের কাজ কি জানুন

অনেকেই এখন পর্যন্ত জানে না যে জমির দলিল কত প্রকার ও কি কি হয়ে থাকে আর দলিলগুলোর নামই বা কি কি হয়। তাদের জন্য আজকে আমার এই আর্টিকেল টি লিখা। আপনি যদি দলিল কত প্রকার ও কি কি হয়ে থাকে কোন দলিলের কাজ কি জানতে চান তাহলে অবশ্যই এই লিখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। তাহলে দলিল নিয়ে আপনার আর কোন ধরনের প্রশ্ন থাকবে না।

আমরা জানি যে দলিল হলো জমি জমা বা সম্পত্তির প্রান। সহজ ভাবে বলতে গেলে দলিল হলো যে কোন অর্থ সম্পদ বা সম্পত্তির লিখিত চুক্তিপত্র নথি। তাহলে আজকে আপনারা দলিল কত প্রকার ও কি কি হয়ে থাকে কোন দলিলের কাজ কি জানুন।

পোষ্ট সূচিপত্রঃ জমির দলিল কত প্রকার ও কি কি হয়ে থাকে কোন দলিলের কাজ কি জানুন

  • ভূমিকা দলিল কত প্রকার ও কি কি
  • বন্টননামা দলিল
  • হেবা দলিল
  • দানপত্র দলিল
  • না দাবি দলিল
  • অছিয়তনামা দলিল
  • সাফ কবলা দলিল কি
  • বায়না পত্র দলিল
  • এওয়াজ দলিল
  • দখলনামা দলিল
  • হেবাবিল এওয়াজ দলিল
  • উইল দলিল
  • আরজি দলিল
  • বেনামী দলিল
  • ডিক্রি দলিল
  • রায় দলিল
  • দলিল নিয়ে শেষ কথা

ভূমিকাঃ দলিল কত প্রকার ও কি কি

দলিল হলো যেকোনো ধরনের সম্পত্তি কিংবা টাকা পয়সা লেনদেনের শক্তপোক্ত মাধ্যম। দলিল ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিস ক্রয় বিক্রয়ের নথিপত্র করে রাখা হয়। ধরুন আপনি আপনার সম্পত্তি বিক্রয় করবেন আমার কাছে তার জন্য অবশ্যই আপনাকে দলিল করতে হবে। আপনি যদি আমার কাছে জমি বিক্রয় করেন তাহলে সেটি বিক্রয় কমলা দলিল হিসেবে গণ্য হবে। আমরা মূলত প্রথমে জেনে নেব যে দলিল কত প্রকার ও কি কি হয়ে থাকে এবং এর পরে জানবো কোন দলিলের কাজ কি।

দলিল সম্পর্কিত তথ্য জানা একজন মানুষের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কেননা মানব জীবনে দলিলের গুরুত্ব অপরিসীম। তাহলে এবার দলিল কত প্রকার ও কি কি হয়ে থাকে কোন দলিলের কাজ কি জানেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আমরা জানি যে দলিল ১৫প্রকার হয়ে থাকে। আর এই ১৫ প্রকার দলিলের ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে এবং ভিন্ন ভিন্ন দলিলের ভিন্ন ভিন্ন কাজও রয়েছে। আমরা এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে এই ১৫ প্রকার দলিলের সকল খুঁটিনাটি তথ্য গুলো জেনে নিব।

তাই আপনি যদি দলিল সম্পর্কিত তথ্যগুলো সঠিকভাবে জানতে চান তাহলে অবশ্যই এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে আপনাকে পড়তে হবে। যেহেতু আমরা বলেই দিয়েছি দলিল হচ্ছে ১৫প্রকার হয়ে থাকে, তাহলে প্রথমে জেনে নেই ১৫ টি দলিলের নাম কি কি এরপরে জানবো কোন দলিলের কাজ কি হয়ে থাকে। নিচে ১৫ টি দলিলের নাম দেওয়া হলো।

  1. বন্টননামা দলিল
  2. হেবা দলিল
  3. দানপত্র দলিল
  4. না দাবি দলিল
  5. অছিয়তনামা দলিল
  6. সাফ কবলা দলিল কি
  7. বায়না পত্র দলিল
  8. এওয়াজ দলিল
  9. দখলনামা দলিল
  10. হেবাবিল এওয়াজ দলিল
  11. উইল দলিল
  12. আরজি দলিল
  13. বেনামী দলিল
  14. ডিক্রি দলিল
  15. রায় দলিল

আশা করি আপনি এখন দলিল কত প্রকার ও কি কি হয়ে থাকে এবং দলিল গুলোর নাম কি কি সেগুলো জেনে গেছেন। এখন জানার বাকি কোন দলিলের কাজ কি তা একটা একটা করে জানব। এই ১৫ টি দলিলের কি কি কাজ রয়েছে বা কি কি কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে।

আরো পড়ুনঃ নিবন্ধন স্লিপ দিয়ে আইডি কার্ড বের করার নিয়ম জেন নিন

দলিলের ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে তাই তাদের কাজও ভিন্ন ভিন্ন রয়েছে। এক একটি দলিল এক এক রকম কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাহলে চলুন আমরা এবারে একে একে কোন দলিলের কাজ কি জেনে নিন।

বন্টননামা দলিল

বণ্টননামা দলিল মূলত পারিবারিকভাবে হয়ে থাকে। ধরুন একটি পরিবারে একজন বাবার ১০ জন ছেলে মেয়ে রয়েছে। আর সেই বাবা মারা গেছে কিংবা জীবিত থাকা অবস্থায় সে দশ জন ছেলে-মেয়েকে তার সম্পত্তি ভাগ করে যদি দিতে চায় তাহলে এই বন্টন নামে দলিল মূলে তাদেরকে ভাগ করে দিতে পারবে। অংশীদারগণের মধ্যে সম্পত্তি ক্রমে নিজ নিজ ছাহমপ্রাপ্ত হয়ে উক্ত ছাহমের বাবদ যে দলিল করতে হয় তাকেই বন্টননামা দলিল হিসেবে বলা হয়। একই সম্পত্তিতে মালিক একই বংশের লোককে সাধারণত অংশীদার বলা হয়।

অংশীদার আবার দুই ধরনের হয়ে থাকে প্রথমত উত্তরাধিকার সূত্রে অংশীদার এবং দ্বিতীয়ত ক্রয় সূত্রে বা সূত্রে অংশীদার। বন্টন নাম্বার দলিল করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সকল অংশীদারগণ দলিলের পক্ষে থেকে করতে হবে। একজন অংশীদারও যদি বাদ থাকে কিংবা ইচ্ছে করে কেউ যদি একজন অংশীদার কে বাদ দিয়ে দেন তাহলে সেই বন্টননামা দলিল কখনোই সঠিক হবে না।

আপনারা সবাই একদিকে হয়ে গেলেও বাদ দেয়া একজন অংশীদার যদি চাই সে আদালতে এ বিষয়ে সঠিক বিচারের জন্য নালিশ করতে পারবে। আশা করি বন্টন নামে দলিল কি বুঝতে পেরেছেন এ সম্পর্কিত আরো বিস্তারিত তথ্য থাকবে আমার আরও একটি আর্টিকেলে।

হেবা দলিল

হেবা দলিল মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দলিল। হেমা দলিলকে দানপত্র দলিল হিসেবেও বলা হয়ে থাকে। ভেবে দলিল কোন কিছুর বিনিময়ে নয় শুধুমাত্র কারো উপর সন্তুষ্ট হয়ে কেউ হেবা দলিল করে দিতে পারে। হেবা দলিল করতে হলে এটি বিক্রয় বা কট রূপান্তর বা রেহেন ইত্যাদি সকল ক্ষমতা অর্পণ করে হেবা দলীল করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ ভাতার টাকা মোবাইলে দেখার সঠিক নিয়ম জেনে নিন

হেবাদ দলিলের কোন ধরনের কোন শর্ত সম্বন্ধে দাতার কোন ধরনের দাবি থাকলে সেই হেবা দলিল সঠিক হবে না এবং এটি যে কোন সময় বাতিল হয়ে যেতে পারে। হেবা দলিলে সম্পত্তিদাতার কোন ধরনের স্বার্থ সংরক্ষিত থাকবে না বা থাকতে পারে না।

দানপত্র দলিল

ভূমি আইন অনুযায়ী যেকোনো ধর্মের যেকোনো জাতির মানুষ যে কোন ব্যক্তিকে তার নিজস্ব সম্পত্তি দান করে দিতে পারেন। আর দানপত্র দলিলে কোন ধরনের শর্ত থাকতে পারে না। যে ব্যক্তিকে দানপত্র দলিল করে দেওয়া হবে সমস্ত ক্ষমতা দানপত্র দলিল গ্রহীতার হবে। তবে দানপত্র দলিলে কোন ধরনের শর্ত সম্পর্কে না তার কোন প্রকার দাবি দেওয়া থাকলে সেই দানপত্রটি আর শুদ্ধ হবে না বা সঠিক হবে না যেকোনো সময় সেটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

না দাবি দলিল

নাদাবি দলিল এ মূলত কোন ধরনের দাবির দেওয়া থাকা যাবে না। আমরা তো জানি না না দাবি মানে যে জিনিসটি দিয়ে দেওয়া যা হবে বা যে সম্পত্তি দিয়ে দেওয়া হবে সেটির উপর কোন ধরনের দাবি দেওয়া থাকবে না। নিজ ইচ্ছায় সজ্ঞানে দিয়ে দাও এবং তার উপর কোন ধরনের আর জোরজবস্তি থাকবে না।

কোন ব্যক্তি যদি তার সুনির্দিষ্ট সম্পত্তি যে কোন ব্যক্তিকে শতাধিকার নাই মর্মে কিংবা উক্ত সম্পত্তিতে সকল স্বত্বাধিকার ত্যাগ করলাম বলে না দাবি দলিল গ্রহীতাকে রেজিস্ট্রি করিয়া দেয়। তাহলে এ ধরনের দলিলকে না দাবি দলিল হিসেবে বিবেচিত করা হয়।

অছিয়তনামা দলিল

ওসিয়াত নামা দলিল মূলত কোন ব্যক্তি কারো উপর সন্তুষ্টি হয়ে করে থাকেন। আর কোন ব্যক্তি যদি অছিয়তনামা দলিল তার উত্তরাধিকারদের না দিয়ে অন্য কোন তৃতীয় ব্যক্তিকে দিয়ে মারা যান। তাহলে তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারগণ যদি সেই সম্পত্তি নিয়ে দাবি উত্থাপন করেন তাহলে যাকে সম্পতি ওছিয়ত করে গিয়েছিলেন সম্পত্তি দাতা।

সেই ব্যক্তি সেই সম্পত্তির শুধুমাত্র এক তৃতীয়াংশ ভাগ পাবেন। আর বাকি সম্পূর্ণ অংশ পাবেন অছিয়তনামা দলিল এর ব্যক্তির সেই উত্তরাধিকারীরা। অছিয়তনামা দলিল দাতার যত জন উত্তরাধিকারী থাকবে সকলেই সে সম্পত্তির ভাগ পাবেন।

সাফ কবলা দলিল কি

সাপ কবলা দলিল কি অনেকে জানতে চেয়ে থাকেন। আসলে বর্তমানে আমাদের দেশের সবচেয়ে বেশি সাফ কবলা দলিল হয়ে থাকে, যাকে বিক্রয় কবলা দলিল বলা হয়। বর্তমানে প্রতিটি রেজিস্টার অফিসেই সবচেয়ে বেশি এই সাফ কবলা দলিল হয়ে থাকে। কোন ব্যক্তি যদি তার নিজস্ব সম্পত্তি অন্যের নিকট সাফ কবলা দলিল বা বিক্রয় কবলা দলিল করে রেজিস্ট্রি করে দেন তাহলে তাকে সাফ কবলা বা বিক্রয় কবলা বা খরিদ কবলা দলিল বলা হয়।

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট যে তথ্য গুলো আপনার জানা দরকার

সাফ কবলা দলিল একবার যদি সম্পত্তিদাতা সম্পত্তি গ্রহিতাকে যে রেজিস্ট্রি করিয়া দেন তাহলে রেজিস্ট্রি করার পর থেকেই সম্পত্তিদাতার সকল সম্পত্তি সাফ কবলা দলিল গ্রহীতার নামে হয়ে যাবে এবং সম্পত্তিদাতা একদম নিঃশর্তবান হয়ে যাবেন। আশা করি সাফ কবলা দলিল কি জানতে পেরে গেছেন।

বায়না পত্র দলিল

বায়নাপত্র দলিল বলতে কোন সম্পত্তি যদি বিক্রয় করার জন্য সম্পত্তিদাতা এবং উক্ত সম্পত্তি ক্রেতা উভয়ের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন করা হয় সেটাকে বায়নাপত্র দলিল বলা হয়। ধরুন আমি আমার সম্পত্তি আপনার কাছে বিক্রয় করব তার জন্য আমাকে বায়না পত্র দলিল করতে হবে প্রথমে এবং এই বায়না পত্র দলিল করার পর উক্ত সম্পত্তির সকল কাগজপত্র ঠিকঠাক করে সময় নিয়ে ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে আমার সেই সম্পত্তি আপনাকে রেজিস্ট্রি করে দিতে বাধ্য থাকিব।

তবে শুধুমাত্র এই বায়না পত্র দলিল দ্বারাও সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায়। তবে কোন বায়না পত্র দলিলদাতা যদি তার সম্পত্তি বায়না পত্র দলিল করে তার গ্রহিতাকে সম্পত্তি অংশ বুঝিয়ে দিয়ে থাকে ও তার কাছ থেকে সেই অংশের টাকা নিয়ে থাকেন এবং কোন কারণবশত তাকে জমির দলিল সম্পাদন বা রেজিস্ট্রি না করে দেয়। তারপরেও দলিল গ্রহীতা উক্ত সম্পত্তিতে স্বত্ব হয়েছে বলে গণ্য হবে। এতে করে সম্পূর্ণ সম্পত্তি হস্তান্তর না হলেও আংশিক বিক্রয় কার্যক্রম সম্পাদন হয়েছে বলে উক্ত গ্রহীতা জমি ভাগ দখল করতে পারবেন।

এওয়াজ দলিল

এওয়াজ দলিল বলতে পরিবর্তন দলিল কে বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ ধরুন আমার একটি জমি আপনার বাড়ির কাছে রয়েছে এবং আপনার একটি জমি আমার বাড়ির কাছে রয়েছে। এখানে একজনের সম্পত্তি আরেকজনের দখলে কিন্তু দুজনে আবার ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় রয়েছি। যার ফলে আমাদের সম্পত্তির অবস্থান বিপরীত হয়ে গেছে।

এরকম পরিস্থিতিতে আমি আপনাকে আমার বাড়ির কাছে থাকা আপনার সম্পত্তি এবং আপনি আপনার বাড়ির কাছে থাকা আমার সম্পত্তি পরিবর্তন করে রেজিস্ট্রিকে করে নিতে পারি। আর এ ধরনের রেজিস্ট্রি করাকে এওয়াজ দলিল বলা হয়। এওয়াজ দলিল যেকোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মানুষ যে কোন মানুষের সঙ্গেই পরিবর্তন করে নিতে পারে। তবে অবশ্যই এওয়াজ দলিলটি রেজিস্ট্রি হতে হবে। আশা করি দলিল কি বুঝতে পেরেছেন।

দখলনামা দলিল

দখলনামা দলিল এটি একটি জটিল বিষয় বলা যায়। কেননা দখলনামা দলিল হয় আদালতের মাধ্যমে। বণ্টনের মামলা কিংবা খাস দখল প্রিয়েমসান ইত্যাদি ডিগ্রী প্রাপ্তর পর আদালত হতে বন্টনের যুগে ডিগ্রীর দখলী পরোয়ানার ভিত্তিতে দখল গ্রহণ করাকে দখলনামা দলিল বলা হয়। তবে ডিগ্রি প্রাপ্ত হওয়ার পরে কমিশনার ও আদালতের নায়ক নাজির উক্ত দখলী পরোয়ানা আদালতে দাখিল করে থাকেন।

হেবাবিল এওয়াজ দলিল

হেবা বিল এওয়াজ দলিল হল মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি দানপত্র দলিল এই হেবা বেল আবাস দলিলটিও মূলত কারো উপর সন্তুষ্ট হয়ে করা হয়ে থাকে। তবে এটি কোন কিছুর বিনিময়ে করা হয় যেমন জায়নামাজ, সোনার আংটি , পবিত্র কুরআন, মোহরানার টাকা এমনকি যে কোন ধরনের জিনিসের বিনিময়েও হতে পারে যেমন তসবিহ ইত্যাদি। আওয়াজ দলিল সকল ধরনের সত্য বিহীন অবস্থায় গ্রহীতা গ্রহণ করতে পারবেন এবং সকল হস্তান্তর ও ক্ষমতার একমাত্র অধিকারী হবেন গ্রহিতা।

আরো পড়ুনঃ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম জেনে নিন

এতে কোন ধরনের দাতা শর্ত দিতে পারবেনা আর যদিও শর্ত দেয় তাহলে সেই দলিলটি সঠিক হবে না। আর অবশ্যই হেবা বিল এওয়াজ দলিলটি রেজিস্ট্রি হতে হবে। তবেহেবাবিল এওয়াজ দলিল যদি টাকার বিনিময় হয়ে থাকে তাহলে ক্রমিক অংশীদার সূত্রে আগে পরে তিন ধাপের পরের অংশীদারকে যদি হেবাবিল এওয়াজ দলিল করে দেওয়া হয় তাহলে অবশ্যই অংশীদার কর্তৃক জানার তারিখ হতে চার মাসের মধ্যেই প্রিয়েমসান করতে পারবে ওয়ারিশগন।

উইল দলিল

উইল দলিল মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য হয়ে থাকে। যদি কোন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক তাই যে তারা তাদের নিজ সম্পত্তি যাকে ইচ্ছা ও যে কোন আত্মীয়দের মধ্যে উইল দলিল করে দিতে পারবেন। উইল দলিল দাতা জীবিত অবস্থায় একাধিক ব্যক্তির কাছেও উইল দলিল করতে পারবেন। তবে এখানে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো উইল দলিল দাতা যাকে সর্বশেষ তার সম্পত্তি উইল দলিল করে দিবেন শুধুমাত্র সেই দলিল টাই কার্যকর হবে।

আরজি দলিল

আরজি দলিল একজন বাদী তার বিরোধী ও ভূমির জন্য বিবাদী গনের বিরুদ্ধে আদালতে যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন তাকে আরজি দলিল বলা হয়ে থাকে। মূলত আরজি দলিল এ বাদী তার সকল শর্ত সম্পর্কে যাবতীয় বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে এবং এর প্রতিকার চেয়ে আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সকল ক্ষেত্রে আরজি গ্রহণযোগ্য হয় না। তবে কিছু কিছু দরখাস্ত আর্য হিসেবে গণ্য হয় যেমন নির্দেশন পত্র, উত্তরাধিকার, অভিভাবক নিযুক্তির দরখাস্ত, প্রবেট এবং প্রিয়েমসান।

বেনামী দলিল

বেনামী দলিল মূলত কোন ব্যক্তি তার নিজের নামে সম্পত্তি কিনার বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার কারণে করে থাকেন। একজন ব্যক্তি যদি সম্পত্তি কেনার আগে বুঝতে পারেন যে সে এই সম্পত্তি কেনার ফলে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে তার জন্য সে তার নিজের আত্মীয় ছেলে-মেয়ে বন্ধু-বান্ধব কিংবা নিজের স্ত্রীর নামে বেনামী দলিল হিসেবে সম্পত্তি ক্রয় করতে পারে।

আবার কোন ব্যক্তি যদি ঋণের দায়ে নিজের সম্পত্তি নষ্ট হওয়ার আলামত পান তাহলে ওই ব্যক্তি তার নিজের সম্পত্তি যে কোন নিজ আত্মীয়র নামে করে দিতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই সাপ কমলা বিশেষের দানপত্র দলিল হতে হবে।

ডিক্রি দলিল

ডিক্রি দলিল কোন রায়ের পরিপেক্ষিতে রায়ের আদেশ অংশ সংযোজন করে। সম্পত্তির বাদী ও বিবাদী পক্ষের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা সহ সম্পত্তি সংক্রান্ত হলে সম্পত্তির সঠিক তফশিল পরিচয় দিয়ে একটি দলিল প্রস্তুত করে আদালত কর্তৃপক্ষ আর এটিকে ডিক্রি দলিল বলা হয়। ডিক্রি দলিল মূলত আদালত কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়ে থাকে।

রায় দলিল

রায় দলিল একটু ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। কোন ব্যক্তির যেকোনো সম্পত্তি অথবা টাকা-পয়সা কিংবা অন্যান্য যেকোনো কারণে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ হলে বা নালিশ করা হলে বাদীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিবাদীর জবাবন এর পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষী প্রমাণ গ্রহণ করে এক তরফা কিংবা দুই তরফা শুনানির পর যদি বিচারক তার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে লিখিতভাবে জানিয়ে দেন তখন তাকে রায় বা রায় দলিল বলা হয়।

দলিল কত প্রকার ও কি কি নিয়ে শেষ কথা

আমরা দলিল কত প্রকার ও কি কি হয়ে থাকে কোন দলিলের কাজ কি জানেন পড়বে সকল দলিলের বিস্তারিত তথ্য আমরা সঠিকভাবে জেনে নিলাম। এই আর্টিকেলটি যদি আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে আশা করা যায় আপনার আর দলিল নিয়ে কোন ধরনের প্রশ্ন থাকবে না। কেননা এখানে ১৫ টি দলিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি আমি। এর পরবর্তীতে এই ১৫ টি দলিলের মধ্য থেকে যেই পাঁচটি দলিল সর্বোচ্চ বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে সেগুলোর আরো বিস্তারিত নিয়ম কানুন সহ প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরব।

আশা করি সেই লেখাটিও আপনারা মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। তাহলে আপনার কোন ধরনের সম্পত্তি কয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আর সমস্যা থাকবে না। আপনি নিজে নিজেই কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই সম্পত্তি ক্রয় বিক্রয় করতে পারবেন। কেননা এর পরে আমি সম্পত্তি ক্রয় বিক্রয় নিয়ে এবং কোন দলিলে সম্পত্তি নিলে বা বিক্রি করলে ভালো হয় সে সম্পর্কে সঠিক একটি ধারনা দেব।

আপনি যদি জানতে চান সে সকল তথ্য তাহলে অবশ্যই নিতে কমেন্ট করে জানাবেন। আর যদি এই লেখাটি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ প্রিয় পাঠক বিন্দু ভালো থাকবেন।

Assalamu Alaikum! Hello world, I am Md. Hafijul Islam (mhihafijul). I am a Bangladeshi SEO expert. And I have been writing high quality Bengali content for a long time. I can write very nice SEO friendly articles. Along with that we do onpage seo, offpage seo and technical seo in proper guidelines. For which every article I write ranks on Google's fast page.

Sharing Is Caring:

Leave a Comment

error: Content is protected !!