ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম সহ বিস্তারিত তথ্য জানুন

আপনি হয়তো জানতে এসেছেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কি? কেন তৈরি করা হয়েছে? ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম কি? ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে জানতে হলে অবশ্যই এই পোষ্টটি আপনাকে মনযোগ দিয়ে পড়তে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সকল খুঁটিনাটি বিষয়ে আপনি এই পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারবেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ সালে পাশ করার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত  অনেক বিতর্কিত রয়েছে। ডিজিটাল  নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আপনাদের মাঝে  তুলে ধরবে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়মগুলো।

পোষ্ট সূচিপত্রঃ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম সহ বিস্তারিত তথ্য জানুন

  • ভূমিকা
  • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কি
  • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা কোথায় করতে হয়
  • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম
  • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কবে পাশ হয়
  • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮
  • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর
  • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ধারা
  • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের শাস্তি
  • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার
  • উপসংহার

ভূমিকা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বলতে এখানে বিভিন্ন ধরনের সোসিয়াল প্লাটফর্ম গুলোর নিরাপত্তা বোঝানো হয়েছে। যেমন, ফেসবুক, ইউটিউব, ওয়েবসাইট, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার ইত্যাদি এইগুলোর সঠিক নিরাপত্তার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এই সকল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে  কেউ যাতে কোনো ধরনের উস্কানিমূলক, কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে না পারে তার জন্য সাথে সাথে এ্যাকশন নেওয়া যায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এর মাধ্যমে।

তবে এই আইন পাস করার পর থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের ধারনা এই আইনটির অনেক ধারায় হয়রানি ও অপব্যবহার হতে পারে। আমার এইবার এই পোষ্টের মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম সহ বিস্তারিত তথ্য জানবো এখন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম পর্বে সাইবার অপরাধ দমনে তথ্য প্রযুক্তি আইন করা হয় ২০০৬ সালে। এই আইনগুলি সাধারণত ডিজিটাল প্রযুক্তি, তথ্য প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স ও সংযোগমূলক প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। এই আইনগুলির মাধ্যমে সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীরা ডিজিটাল পরিবেশে নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে পারে এবং ডিজিটাল অপরাধগুলির প্রতিষ্ঠান করতে পারেন। উক্ত আইনের ৫৭ ধারায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী

বাহিনীকে পূর্ণ এবং অগাধ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। যার কারণে উক্ত আইনটি সমালোচনার মুখে সরকার সংশোধনের আশ্বাস দেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম সংশোধনের আশা দিয়ে প্রদান না করেও পরবর্তীতে 2018 সালের অক্টোবরে উল্টা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে আরো কঠোর একটি আইন তৈরি করা হয়। সাধারণ নাগরিক রাজনৈতিক সাংবাদিক শহর সুশীল সমাজের লোকজন এই আইন বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন প্রতিনিয়তই। সংক্ষিপ্ত আকারে বলতে গেলে বলা যায়

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হলো সাইবার নিরাপত্তা বা অনলাইন এক্টিভিটিস কার্যকলাপ সম্পর্কিত নিরাপত্তা। আপনি হয়তো জেনে থাকবেন যে অনলাইনে এখন বিভিন্ন মাধ্যমে বিভিন্ন রকম ভাবে অপরাধ তৈরি হচ্ছে। আর এই সকল অপরাধ দমনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মূলত ২০১৮ সালে তিরোধারা ১৮ ধারা ১৯ ধারাবির ধারা ২১ দ্বারা ২৫ ধারা ২৭ ধারা ২৮ ধারা ২৯ ধারা ৩২ ও ৩৪ ধারা উল্লেখ করে প্রকাশিত হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা কোথায় করতে হয়

বাংলাদেশ কিংবা বিশ্বের যে কোন দেশে বসে বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক যদি এই আইন লঙ্ঘন করে তাহলে তার বিরুদ্ধে এই আইনে মামলা করে বিচার করা যাবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিচার কার্যসম্পাদন করা হয় বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। মামলা করার ১৮০ দিনের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে হয়। ১৮০ দিনের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ ৯০ কার্বিত দিবস পর্যন্ত আরো বাড়ানো যায়। যেকোনো ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে

কেউ যদি আপনার কোন ধরনের ক্ষতি করতে চায় তাহলে আপনি তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে পারেন। এই আইনে মামলা করার জন্য আপনি আপনার নিকটস্থ থানায় গিয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে হবে। পরবর্তী ব্যবস্থা সেই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিংবা যেকোনো একজন কর্মকর্তা নিবেন। শুধুমাত্র আমলযোগ্য অপরাধ হলে থানায় মামলা করতে পারবেন তাছাড়া অ-আমলযোগ্য অপরাধ হলে সেটি সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে।  আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার আগে অবশ্যই এ বিষয়ে আপনার সাধারণ জ্ঞান থাকতে হবে কিংবা সাধারণ কিছু বিষয় অবশ্যই আপনাকে জানতে। তাহলে চলুন এবারে জেনে নেওয়া যাক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম। সাইবার অপরাধ হচ্ছে দুই ধরনের ১ হচ্ছে আমলযোগ্য অপরাধ ২ হচ্ছে অ-আমলযোগ্য অপরাধ। আমলযোগ্য অপরাধগুলোর মামলা সাধারণত নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে বা থানায় করা যায়। আর সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে আমলযোগ্য ও অ-আমলযোগ্য ২ ধরনের মামলায় সাইবার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট যে তথ্য গুলো আপনার জানা দরকার

তাহলে এবারে জেনে নেওয়া যাক আমলযোগ্য অপরাধ কোনগুলো বা কত ধারায় উল্লেখ করা আছেঃ ১৭ নং ধারা, ১৯ নং ধারা, ২১ নং ধারা, ২২ নং ধারা, ২৩ নং ধারা, ২৪ নং ধারা, ২৬ নং ধারা, ২৭ নং ধারা, ২৮ নং ধারা, ৩০ নং ধারা, ৩১ নং ধারা, ৩২ নং ধারা, ৩৩ নং ধারা এবং ৩৪ নং ধারা। এই ১৪ টি ধারাই হলো আমলযোগ্য অপরাধের ধারা। এবং ও অ আমলযোগ্য ধারাগুলো হলঃ ১৮ নং ধারা, ২০ নং ধারা, ২৫ নং ধারা, ও ২৯ নং ধারা। অবশিষ্ট এই চারটি ধারা হল আমল অযোগ্য অপরাধ ব অ আমলযোগ্য অপরাধ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম আরো জেনে নি নিচে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কবে পাশ হয়

আপনি যদি আমার উপরে লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই এতক্ষণে জেনে গেছেন যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কবে পাস করা হয়। তারপরে চলুন এখন এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গুলো জেনে নেওয়া যাক। ২০১৮ সালের ২৯ শে জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর খসড়া চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেন মন্ত্রিসভা। তারপরে গত ৯ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে উক্ত আইনের খসড়া সংসদে উপস্থাপন করে উক্ত সময়ের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।

সেই দিনেই বিলটি ভালোভাবে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সূত্রে সেপ্টেম্বর সংসদীয় কমিটি সংসদে প্রতিবেদনটি জমা দেন। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে বুধবার এটি সংসদে পাশ হয়ে যায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাস হওয়ার পর থেকেই সংসদীয় কমিটিতে সম্পাদকগণ ডিজিটাল আইনের ৮ ধারা, ২১ ধারা, ২৫ দ্বারা, ২৮ ধারা, ২৯ ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আপত্তি জানান। এখানে আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলাম যে ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাস করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম পর্বে আমরা উপরোক্ত আলোচনা থেকে জেনে গেছি যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি ২০১৮ সালে পাশ করা হয়। এবং এদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ নামে খসড়া উত্থাপিত হয়েছিল। এই খসড়াটি ৯ টি অধ্যায়ে তুলে ধরা হয়। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল ষষ্ঠ অধ্যায় অপরাধ ও এর শাস্তি নিয়ে তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক এই অধ্যায়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোঃ

  • কারো কম্পিউটার, যেকোন ডিজিটাল ডিভাইস, বা কম্পিউটার সিস্টেম ইত্যাদিতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করা যাবে না।
  • কম্পিউটার সিস্টেম অথবা যেকোন ডিজিটাল ডিভাইসের ক্ষতি সাধন করা যাবে না।
  • কারো কম্পিউটারের সোর্স কোড চেঞ্জ করা যাবে না।
  • মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, দেশের জাতীয় সংগীত বা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোন প্রকার প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণা ছড়ানো যাবে না।
  • ডিজিটাল অথবা ইলেকট্রনিক্স কোন ধরনের জালিয়াতি করা যাবে না।
  • ডিজিটাল কিংবা ইলেকট্রনিক্স কোন ধরনের প্রতারণা করা যাবে না।
  • নিজের পরিচয় প্রতারণা বা ছদ্মবেশ ধারণ করা যাবে না।
  • আক্রমণাত্মক, মিথ্যা কিংবা ভয়-ভীতি প্রদর্শন তথ্য উপাত্ত প্রেরণ প্রকাশ ইত্যাদি করা যাবে না।
  • অনুমতি ব্যতীত কারো তথ্য সংগ্রহ করা যাবে না কিংবা ব্যবহার করা যাবে না।
  • যে কোন অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে সাইবার ক্রাইম করা যাবে না।
  • ওয়েবসাইট, ইউটিউব ভিডিও কিংবা ইলেকট্রনিক্স যে কোন ডিভাইস ব্যবহার করে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করে এ ধরনের কোন তথ্য প্রকাশ বা সম্প্রচার করা যাবে না।
  • যে কারো মানহানি কর তথ্য প্রকাশ বা সম্প্রচার করা যাবে না।
  • আইনানুগ কর্তৃক বহির্ভূত কোন ধরনের ই-ট্রানজেকশন করা যাবে না।
  • কোন ধরনের সরকারি গোপনীয়তা ভঙ্গ করা যাবে না।
  • কারো অনুমতি ছাড়া বেআইনিভাবে কোন তথ্য উপাত্ত ধারণ বা স্থানান্তর করা যাবে না।
  • হ্যাকিং সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের অপরাধ করা যাবে না।
  • যেকোনো ধরনের অপরাধ সংগঠনের সহায়তা করা যাবে না।
  • বাংলাদেশের যেকোন কোম্পানির অপরাধ সংগঠন করা যাবে না।
  • কারো ক্ষতিপূরণের আদেশ দানের ক্ষমতা না প্রয়োগ করা
  • সেবা প্রদানকারী যে কারো কাছে দায়ী না হওয়া

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর

আমরা উপরে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আগেই জেনে গেছি। তারপর আরো একবার জেনে নেওয়া যাক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর হয় কবে থেকে। ২০১৮ সালের ২৯ শে জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর খসড়া চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেন মন্ত্রিসভা। তারপরে গত ৯ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে উক্ত আইনের খসড়া সংসদে উপস্থাপন করে।

উক্ত সময়ের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। সেই দিনেই বিলটি ভালোভাবে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সূত্রে সেপ্টেম্বর সংসদীয় কমিটি সংসদে প্রতিবেদনটি জমা দেন। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে বুধবার এটি সংসদে পাশ হয়ে যায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম পর্বে আরো জেনে নিন নিচে বিস্তারিত।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ধারা

আমরা উপরে জেনে গেছি যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মোট ১৮ টি ধারা উল্লেখিত রয়েছে তার মধ্যে ১৪ টি ধারা হচ্ছে আমলযোগ্য এবং চারটি অ আমলযোগ্য ধারা। তাহলে এবারে জেনে নেওয়া যাক আমলযোগ্য অপরাধ কোনগুলো বা কত ধারায় উল্লেখ করা আছেঃ ১৭ নং ধারা, ১৯ নং ধারা, ২১ নং ধারা, ২২ নং ধারা, ২৩ নং ধারা, ২৪ নং ধারা, ২৬ নং ধারা, ২৭ নং ধারা, ২৮ নং ধারা, ৩০ নং ধারা,

আরো পড়ুনঃ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সর্বোচ্চ বয়স কত

৩১ নং ধারা, ৩২ নং ধারা, ৩৩ নং ধারা এবং ৩৪ নং ধারা। এই ১৪ টি ধারাই হলো আমলযোগ্য অপরাধের ধারা। এবং ও অ আমলযোগ্য ধারাগুলো হলঃ ১৮ নং ধারা, ২০ নং ধারা, ২৫ নং ধারা, ও ২৯ নং ধারা। অবশিষ্ট এই চারটি ধারা হল আমল অযোগ্য অপরাধ ব অ আমলযোগ্য অপরাধ ধারা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের শাস্তি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারায় বিভিন্ন ধরনের শাস্তি এবং জরিমানার কথার উল্লেখ করা রয়েছে। আপনি চাইলে উইকিপিডিয়া তে সার্চ দিয়ে তা দেখে নিতে পারেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম এখানে লিখতে গেলে আমার লেখাটি আরো অনেক বড় হয়ে যাবে তাই বিশেষ কিছু ধারা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। আপনি যদি সবগুলো ধারা সম্পর্কে জানতে চান তাহলে অবশ্যই google অথবা উইকিপিডিয়া তে সার্চ দিন। ডিজিটাল নিরাপত্তা

আইনের ২৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে মানহানির বিচার সম্পর্কে।  ৩৩ ধারায় বলা রয়েছে যদি কোন ব্যক্তি কারো ওয়েবসাইট বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক্স বিনাশে দন্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় বর্ণিত মানহানিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করেন। তাহলে তিনি ৩ বছর পর্যন্ত অথবা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কারাদণ্ডে বা উভয় দন্ডে দণ্ডিত হতে পারেন কিংবা হবেন। এছাড়া ছাড়াও বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করলে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করবে। এবং কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে দশ বছরের শাস্তি ভোগ করতে হবে তাকে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার

২০১৮ সালে খসড়া প্রণয়নের পর থেকেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। নিরাপত্তা আইন শুরু থেকেই অনেক বিতর্কিত ছিল সাংবাদিক এবং জনসচেতন মহলের কাছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই আইনটি নিয়ে আবার ব্যাপ শুরু হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্লেষকরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি বাতিলের জোর দাবি করেছেন।

আবার অনেক সাংবাদিক নেতারা বলছেন আইনটির কয়েকটি ধারা সংশোধন করা অতি জরুরি। আবার অনেকেই অপরাধ না করেও কেউ আইনের ফাঁদে পড়ে যাচ্ছেন যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম পর্বের শেষের অংশে চলে এসেছি।

উপসংহার

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম পর্বে পরিশেষে বলা যায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি কানুন যা সংগঠিত ও অসংগঠিত ডিজিটাল উপাদানগুলির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্ধারিত বিধিমালা নিয়ে থাকে। এই আইনগুলি ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য সুরক্ষা, কম্পিউটার অপারেশন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিভিন্ন দেশের আইনগুলির সমষ্টি বোঝায় যা ডিজিটাল প্রযুক্তি, ইন্টারনেট এবং তথ্য নিরাপত্তার বিষয়ে নির্ধারিত নীতি, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং অপরাধগুলির দণ্ডপ্রাপ্তি সংক্রান্ত বিধিমালা সংক্রান্ত বিষয়গুলি শামিল করে।

এই আইনগুলির উদ্দেশ্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ও তথ্য সংক্রান্ত অপরাধগুলি থেকে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যবহারকারীদের সুরক্ষিত রাখা, গোপনীয়তা সংরক্ষণ করা, সাইবার অপরাধগুলির জন্য দণ্ডপ্রাপ্তি ও মামলাগুলি প্রতিষ্ঠান করা এবং সাইবার আপাততাগুলির উপর বিচার করা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার নিয়ম সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Assalamu Alaikum! Hello world, I am Md. Hafijul Islam (mhihafijul). I am a Bangladeshi SEO expert. And I have been writing high quality Bengali content for a long time. I can write very nice SEO friendly articles. Along with that we do onpage seo, offpage seo and technical seo in proper guidelines. For which every article I write ranks on Google's fast page.

Sharing Is Caring:

Leave a Comment

error: Content is protected !!