পৃথিবীর ইতিহাসে আরাল সাগরের বয়স কত এর রহস্য জেনে নিন

আপনি হয়তো জানেন না আরাল সাগর কি এবং কোথায় অবস্থিত এটি। আজকে আমি পৃথিবীর ইতিহাসে আরাল সাগরের বয়স কত। আরাল সাগর কোথায় অবস্থিত। সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব এই আর্টিকেলটিতে। আরব সাগর নিয়ে আপনার যদি কৌতুহল থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আমার এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

আরাল সাগর মধ্য এশিয়ার সবচেয়ে বড় হুদ ছিল। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হ্রদের  মধ্যে ৪ নম্বর হ্রদ ছিলো এই আরাল সাগর। যা আজ দিন দিন বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে। তাহলে চলুন এখন আমরা জেনে নিই পৃথিবীর ইতিহাসে আরাল সাগরের বয়স কত ছিলো।

পোস্ট সূচিপত্রঃ পৃথিবীর ইতিহাসে আরাল সাগরের বয়স কত

  • ভূমিকা
  • আরাল সাগরের গুরুত্ব
  • পৃথিবীর ইতিহাসে আরাল সাগরের বয়স কত
  • আরাল সাগরের আয়তন কত
  • 1960 সাল থেকে আরাল সাগর কত সংকুচিত হয়েছে
  • কিভাবে মানুষ আরাল সাগর পরিবর্তন করেছে
  • আরাল সাগর বিলুপ্ত হচ্ছে কেন
  • উপসংহার

ভূমিকা

আরাল সাগর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হ্রদগুলোর মধ্য একটি। সৌদি আরবে অবস্থিত। আরাল সাগরের অববাহিকার কয়েকটি দেশ সমূহ হল কিরগিসস্থান, তুর্কমেনিস্তান, ইরান, রাশিয়া, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্থান। তবে বর্তমানে দিন দিন এই আরাল সাগরটি শুকিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী আরাল সাগর প্রায় ৭০% ভাগ পানি শূন্য হয়ে শুকিয়ে এসেছে। আরাল সাগর এর আশেপাশের এলাকার আবহাওয়া মোটেও মানুষের জন্য বসবাসের উপযোগী নয়।

 কেননা আরাল সাগর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাত্র ১০০ মিলিমিটার এবং এখানকার পানি লবণাক্ত প্রায় ১০ গ্রাম। তাই এখানে শুধুমাত্র সামুদ্রিক কিছু মাছ বেঁচে থাকতে পারে। তাছাড়া এ এলাকায় বা এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোন মানুষ বসবাস করতে পারে না বা পারবে না। আশা করি এখন আপনি আরাল সাগর নিয়ে প্রাথমিক একটি ধারণা পেয়ে গেছেন। তাহলে চলুন এবারে আমরা পৃথিবীর ইতিহাসে আরব সাগরের বয়স কত সেটি জেনে নিই।

আরাল সাগরের গুরুত্ব

প্রায় আজ থেকে ৫০ বছর আগে আরাল সাগরে অথৈ পানি ছিল বর্তমানে যা ধুধু মরুভূমিতে পরিণত হয়ে গেছে। তাহলে চলুন এবারে আরাল সাগরের গুরুত্ব কি সেটি আমরা জেনে নেই। অসংখ্য নিয়ামতের ভান্ডার এই আরাল সাগর বা হ্রদ। আরাল সাগরে রয়েছে অসংখ্য সামুদ্রিক মাছ, মুক্তা, শৈবাল এছাড়াও আরো অসংখ্য প্রাণী কুল। আমরা জানি যে সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং আয়োডিন থাকে।

যার ফলে এই মাছগুলো বাজারে বিক্রি হয় খুব এবং সামুদ্রিক মাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে সকল বাজারে। এই আরাল সাগরের মাছ বিক্রি করে অনেক জেলের জীবন যাপন সংসার চলে যায়। এছাড়াও শৈবাল কিংবা মুক্তা বিক্রি করেও এই আরাল সাগরের আশেপাশের এলাকার লোকজন স্বাবলম্বী হতে পারে কিংবা তারা তাদের দৈনন্দিন আহার জোগাড় করতে পারে এগুলো বিক্রি করার মাধ্যমে। এলাকায় কোন ধরনের গাড়ি চলাচল করতে না পারার কারণে।

আরো পড়ুনঃ পেটের গ্যাস কমানোর উপায় সঠিকভাবে জেনে নিন

জলপথ বা এই আরাল সাগর পথ খুবই উপযোগী একটি যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবস্থা। তাহলে আপনি বুঝতেই পারছেন আরাল সাগরের গুরুত্ব কতটুকু। আমরা জানি যে সাগরের তলদেশে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ পাওয়া যায় যেমন তেল গ্যাস এমনকি স্বর্ণের খনিও খুঁজে পাওয়া যায় এই সাগরের তলদেশে। তাই যে দেশে সাগর রয়েছে সেই দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষজন এই সাগরের ছোঁয়ায় অনেক অংশেই কর্মজীবী হয়ে থাকে।

পৃথিবীর ইতিহাসে আরাল সাগরের বয়স কত

এবারে আমরা জেনে নেব পৃথিবীর ইতিহাসে আরাল সাগরের বয়স কত। আরাল সাগর যেহেতু মধ্য এশিও দেশের একটি সবচেয়ে বড় বড় সাগরের বা হ্রদরে মধ্যে ৪ নম্বর একটি সাগর বা হ্রদ। পৃথিবীর ইতিহাসে আরাল সাগরের বয়স ৫.৫ মিলিয়ন বছর বা ৫৫ লক্ষ বছর। তবে বর্তমানে দিন দিন এই আরাল সাগরটি শুকিয়ে যাচ্ছে।

শুকাতে শুকাতে এখন প্রায় ৭০% শুকিয়ে গেছে এই আরাল সাগর। আরব সাগর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় একটি সাগর হয় এর পানি শুকিয়ে গেলেও লবণগুলো থেকে যায়। আর এই লবন দাঁড়াও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষজন জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।

আরাল সাগরের আয়তন কত

অনেকে গুগলে প্রশ্ন করে থাকেন বা সার্চ দিয়ে থাকেন যে আরাল সাগরের আয়তন কত। তাহলে চলুন এখন আমরা আরাল সাগরের আয়তন কত সেটি জেনে নেব। আরাল সাগর যেহেতু পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বড় সাগর গুলোর মধ্যে এর স্থান চার নম্বরে। তাই এই সাগরের আয়তন ও সুবিশাল এবং সুবিস্তৃত। আরাল সাগরের সর্বমোট আয়তন হল ৬৭০০০ বর্গ কিলোমিটার এর উচ্চতা ছিল ২৯ ফুট এবং গভীরতা ছিল ১৩৮ ফুট মত। ১৯৮৯ সালে আরাল সাগর ৬৭ হাজার বর্গ কিলোমিটারে প্রশস্ত ছিল।

তবে বর্তমান তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালের শেষের দিকে এসে এটি প্রায় ৭০ ভাগ শুকিয়ে গিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। আশা করি এখন আপনি আরাল সাগরের আয়তন কত সেটি জানতে পেরে গেছেন। তাহলে এখন আমরা পৃথিবীর ইতিহাসে আরাল সাগরের বয়স কত এবং আরাল সাগরের আয়তন কত সেটি জেনে গেলাম। তবে এর আরো কিছু তথ্য রয়েছে যা আমাদের জানা দরকার সেগুলো এখন আমরা জেনে নিব।

১৯৬০ সাল থেকে আরাল সাগর কত সংকুচিত হয়েছে

আমরা জানি যে পৃথিবীর সর্বোচ্চ বড় বড় সাগর গুলোর মধ্যে ৪নাম্বর সাগর হচ্ছে আরাল সাগর। ১৯৬০ সাল থেকে আরাল সাগর কত সংকুচিত হয়েছে তা আমরা এবার বিস্তারিতভাবে জেনে নেব। ১৯৬০ সালে আরাল সাগরের আয়তন ছিল ৬৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার। যা ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে ২০০৪ সালের শেষের দিকে এসে আয়তন দাঁড়ায় মাত্র ৩ হাজার ৫০০ বর্গ কিলোমিটার।

যা ধীরে ধীরে এই আরাল সাগরকে বিলীন করে দিচ্ছে ফলে আরাল সাগর দিন দিন হয়ে উঠছে ধু ধু মরুভূমি।আশা করি ১৯৬০ সাল থেকে আরাল সাগর কত সংকুচিত হয়েছে এবার আপনি জানতে পেরেছেন।

কিভাবে মানুষ আরাল সাগর পরিবর্তন করেছে

মানুষ নিজের স্বার্থের জন্য সবকিছু বিনষ্ট বা ধ্বংস করতে পারে তার বড় একটি উদাহরণ আরাল সাগর।কিভাবে মানুষ আরাল সাগর পরিবর্তন করেছে চলুন আমরা এবার সে বিষয়টি জেনে নিই। ১৯৬০ সালের দিকে আরাল সাগর ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বড় হ্রদগুলোর মধ্যে চার নম্বরে একটি হ্রদ বা সাগর। তখন এর আইতন ছিল ৬৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার এবং উচ্চতা ছিল ২৯ ফুট মত আর এর গভীরতা ছিল ১৩৮ ফুটের মতো। তবে এই সাগরটি দিনে দিনে এতটাই সংকুচিত হয়েছে যে এখন এর বর্তমান আয়তন একেবারেই কমে গেছে।

আরো পড়ুনঃ এজমা থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় এবং এজমা ভালো করার ঔষধের নাম জানুন

সাগর সাগরে প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক মাছ হওয়ার কারণে এবং শৈবাল ঝিনুক কাঁকড়া ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে পাওয়ার জন্য এর উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মৎস্য শিল্প গড়ে তুলেছিলেন আশেপাশের লোকজন। অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্তান্ত্রিক মৎস্য শিল্প গড়ে ওঠার ফলে এত বিশাল সাগরটি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যেতে থাকলো। যার বর্তমান আয়তন মাত্র ১৫০০ বর্গ কিলোমিটারে এসে দাঁড়িয়েছে।

আরাল সাগর বিলুপ্ত হচ্ছে কেন

অনেকের প্রশ্ন করে থাকেন কিংবা গুগলে সার্চ দিয়ে থাকেন যে আরাল সাগর বিলুপ্ত হচ্ছে কেন। চলুন তাহলে আমরা এখন এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরি। আরাল সাগর উপকূলীয় অঞ্চলের আশেপাশে অবৈধভাবে মৎস্য শিল্প গড়ে তোলার কারণে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও আরাল সাগরের চারিপাশে তুলা শিল্প গড়ে তোলার জন্য এবং তুলা চাষের জন্য এ সাগর বিলুপ্তি হচ্ছে। কেননা আমরা জানি যে তুলা চাষে প্রচুর পরিমাণে পানির প্রয়োজন হয় আর এই প্রচুর পরিমাণে পানি আরাল সাগর থেকে তোলা হয়।

আরাল সাগর বিলুপ্ত হচ্ছে কেন এটির সবচেয়ে বড় কারণ হলো ১৯৫৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের অবৈধভাবে মরুভূমির উপর দিয়ে দীর্ঘতম কারাকুম খাল খনন করা। এই দীর্ঘতম খাল খনন করার পরে যখন তুলা চাষের জন্য পানি নিয়ে যাওয়া হত আরাল সাগর থেকে তখন প্রায় 35% মত পানি নষ্ট হয়ে যেত। এর ফলেই আরাল সাগর ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে বা হয়ে গেছে। আশা করি এবার আপনি বুঝতে পেরে গেছেন আরাল সাগর বিলুপ্ত হচ্ছে কেন।

আরাল সাগর নিয়ে শেষ কথা

আরাল সাগর মধ্য এশিয় একটি সাগর বা হ্রদ। যা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বৃহত্তম সাগর গুলোর মধ্যে একটি। তবে বর্তমানে আরাল সাগর বিলুপ্তি হয়ে গিয়েছে অধিকাংশ। যার জন্য দিন দিন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে সু বিস্তৃত সুবিশাল এই সাগরটি। মানুষরা চাইলে যে কত কিছু ধ্বংস করে ফেলতে পারে তার বড় উদাহরণ হয়ে আছে এই আরাল সাগর। আর এই প্রকৃতিকে ধ্বংস করার জন্য মানুষদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।

কেননা আমরা জানি যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পানির প্রয়োজনীয়তা কতটা বেশি এবং গুরুত্বপূর্ণ। এত বড় সুবিশাল একটি সাগর যদি ধ্বংস করতে পারে মানুষ তাহলে আরো কত কিনা ধ্বংস করে ফেলতে পারে। তবে প্রকৃতির এই ধরনের ক্ষতি গুলো দ্বারা মানুষেরও ক্ষতি বয়ে আনবে বরঞ্চ। তাই এ ধরনের বোকামি থেকে আমাদের সবাইকে দূরে থাকতে হবে।

এবং হ্রদ কিংবা সাগর যাই হোক না কেন এর আয়তনকে ধরে রাখতে হবে আমাদেরকে। তবে আমরা ভবিষ্যতে ভালো কিছু পাব। আশা করি পৃথিবীর ইতিহাসে আরাল সাগরের বয়স কত এ সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত তথ্য জেনে গেছেন। আপনি যদি এই আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবেন।

Assalamu Alaikum! Hello world, I am Md. Hafijul Islam (mhihafijul). I am a Bangladeshi SEO expert. And I have been writing high quality Bengali content for a long time. I can write very nice SEO friendly articles. Along with that we do onpage seo, offpage seo and technical seo in proper guidelines. For which every article I write ranks on Google's fast page.

Sharing Is Caring:

Leave a Comment

error: Content is protected !!